ভারতের উত্তরাখণ্ডের সিল্কিয়ারার সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ৪১ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭ দিনের টানা চেষ্টার পর এই শ্রমিকদের উদ্ধার করা হলো।

বাকি শ্রমিকদের কিছুক্ষণের ভেতর উদ্ধার করা হবে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের একটি দল আটকা পড়া ব্যক্তিদের বের করে আনবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে এনডিএমএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ হাসনাইন (অব.) বলেন, সারারাত ধরে অপারেশনটি চলবে। তবে আমরা আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। ‘র‌্যাট মাইনার’ এবং সেনাবাহিনীর সাহায্যের মাধ্যমে আমরা ৫৮ মিটার পর্যন্ত খনন করতে পেরেছি।

খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের আদিম পদ্ধতির নাম র‌্যাট মাইনিং। এটি বর্তমানে আইনত অবৈধ হিসেবে ঘোষিত। ‘র‌্যাট মাইনার’ শ্রমিকদের ১২ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করতে হত। আমেরিকান অগার ড্রিল মেশিন এবং অন্যান্য যন্ত্র দিয়ে এমন গভীর খাদ খনন করা প্রায় অসম্ভব। সুরঙ্গে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করার জন্য আদিম এই পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো শেষ কয়েক মিটার পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করেছে বলে জানিয়েছে। অগার মেশিনসহ নানা ধরনের আধুনিক প্রচেষ্টা ব্যক্তি হওয়ার পর ‘র‌্যাট হোল মাইনিং’ এর মাধ্যমে প্রায় ৬০ মিটার খনন করে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করার পথ সুগম হয়।

এর আগে, গত ১২ নভেম্বর ভারতের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় নির্মাণাধীন একটি টানেলের ভেতরে ভূমিধসের কারণে ৪১ ভারতীয় শ্রমিক আটকা পড়েন।

উত্তরাখণ্ডের পর্যটন বিভাগে নিযুক্ত বিশেষ কর্মকর্তা ভাস্কর খুলবে বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কারিগরি ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অগার মেশিন কাজ বন্ধ করে দেয়। এ কারণে আটকে পড়া শ্রমিকদের থেকে কয়েক মিটার দূরত্বেই উদ্ধারকাজ থমকে যায়। তবে শুক্রবার দুপুরের দিকে আবার উদ্ধার কাজ শুরু হয়।

এর আগে গত ২১ নভেম্বর আটকা পড়ার দশম দিনে ৪১ ভারতীয় শ্রমিককে প্রথমবারের মতো ক্যামেরায় জীবিত অবস্থায় দেখা যায়। উদ্ধারকারীদের কাছে শ্রমিকদের পাঠানো ভিডিওতে তাদের এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরার পাতলা পাইপের দিকে তাকাতে দেখা যায়। এই পাইপের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছে অক্সিজেন, খাবার ও পানি পাঠানো হচ্ছে।

বার্তা বাজার/জে আই