লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চরমোহনা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়াকে (৮০) (কাশিমপুর কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের ফয়েজবক্স বেপারি বাড়ির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। নুর মিয়ার মৃত্যুতে বৃদ্ধ অসুস্থ স্ত্রী, ছেলে ও স্বজনদের আহাজারি চলছে।

মরহুমের জানাজায় রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন দাশ, ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় হাজারো গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) প্রদান করা হয়। এ সময় ইউএনও মৃত নুর মিয়ার পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়া প্রায় ৪ বছর আগে তার এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধে হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন (মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দি নম্বর-৬১৩)। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে খুব অসুস্থ হলে তাকে ঢাকা মেলিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

মামলার সূত্রে জানা যায়,২০১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকালে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে আরশাদ উল্লাহ কারির বাড়ির সামনে তহিরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে সংঘর্ষ হয় মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়া গংদের। ঘটনাস্থলে বৃদ্ধ আলী আকবর কারি (৭০) মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে তহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়া, তার ২ ছেলে, ১ মেয়ে, জামাতাসহ মোট ১১ জনের নামে হত্যা মামলা (নম্বর-১৭) করেন। এ মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়। পরে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুরের হাজিমারা পুলির ফাঁড়ির ইনচার্জ আলমগীর হোসেন নুর মিয়া, তার মেয়ে ও পুত্রবধূসহ ১১ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলে তাদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা জানানো যাবে না—সংশ্লিষ্ট আইনে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। যেমন, দণ্ডপ্রাপ্তরা নির্বাচন করতে পারবেন না—তা আইনেই বলা আছে। সুতরাং আইনে যেহেতু কোনও বাধানিষেধ নেই সেহেতু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়ে কোনও বাধা থাকছে না।’

বার্তা বাজার/জে আই