ভোটের মাঠে নেমে দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়া শুরু করার পরও জাতীয় পার্টির নেতৃত্বের বিরোধ আবারও আলোচনায় এসেছে। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম বিতরণ শেষ করে গতকাল সাক্ষাৎকার গ্রহণ বা বাছাইপর্ব শুরু করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেতৃত্বে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। তবে দলের আরেক শীর্ষ নেতা, প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ গতকাল পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম নেননি বলে জানা গেছে।

জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষকের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর রওশন এরশাদ নিজের ও তাঁর অনুসারীদের মনোনয়নের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।

দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের বিরোধ অনেক পুরোনো। নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার প্রশ্নেও জাতীয় পার্টির দুই শীর্ষ নেতা বিপরীতমুখী অবস্থানে ছিলেন। দলটির সূত্রগুলো জানিয়েছে, জি এম কাদের বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। আর রওশন এরশাদ ছিলেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে। এখন জি এম কাদেরকেও ভোটের মাঠে নামতে হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি নির্বাচনের মনোনয়নপ্রক্রিয়া শুরু করেছে।

কিন্তু রওশন এরশাদ নিজে এবং তাঁর ছেলে রাহগির আল মাহি এরশাদও (সাদ এরশাদ) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। রাহগির আল মাহি বর্তমান জাতীয় সংসদে রংপুর–৩ আসনে সংসদ সদস্য। এবার এই আসনে জি এম কাদের নিজে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এই আসন নিয়েও দলটিতে জটিলতা বেড়েছে বলে দলের প্রেসিডিয়ামের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, রওশন এরশাদ তাঁর ছেলে রাহগির আল মাহি এরশাদের জন্য রংপুর–৩ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত হতে চাইছেন। এ ছাড়া দলের সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ তাঁর অনুসারীদেরও দলীয় মনোনয়নের বিষয় রয়েছে। রওশন এরশাদের দলীয় মনোনয়ন ফরম না নেওয়ার পেছনে এটি অন্যতম কারণ।

জাতীয় পার্টির একজন কেন্দ্রীয় নেতা গতকাল বলেন, জি এম কাদের নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করলেও তাঁর প্রতি সরকারের সন্দেহ রয়ে গেছে। ফলে রওশন এরশাদের এখনো দলীয় ফরম না নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ইঙ্গিত থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে সরকারের কোনো ইঙ্গিত থাকার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ।

এদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘রওশন এরশাদ ফরম নেননি, তবে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। গতকালও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। রওশন এরশাদের জন্য কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বললে মনোনয়ন ফরম তাঁর বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’ জাপার একটি সূত্র বলছে, রওশন এরশাদের অনুসারী মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ অন্যদের দল থেকে আগে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দলের নেতারা নিয়েছিলেন জি এম কাদেরের নেতৃত্বে। ফলে রওশনের অনুসারীদের ব্যাপারে জটিলতা রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে সমঝোতা কীভাবে হবে, দলটির নেতারা তা এ মুহূর্তে বলতে পারছেন না।

দলের মহাসচিব মুজিবুল হক গতকাল মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দু-একটি বাদে ৩০০ আসনেই একাধিক প্রার্থী দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। প্রার্থীদের এলাকায় প্রভাব, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার বিষয়গুলো মাথায় রাখা হচ্ছে। ২৭ তারিখ জাপার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হতে পারে।

বার্তাবাজার/এম আই