ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, বিচারক ও আইনজীবীদের ভয় দেখাতে আদালতে ককটেল হামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

গোয়েন্দা প্রধান বলেন, সোমবার বিএনপির মহাসচিবের জামিন আবেদনের শুনানি ছিল। সেখানেও নাশকতাকারীরা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও বিচারকদের ভয় দেখানোর জন্য চারতলা থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ডিবি টিম তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এনেছে। এ ছাড়া উপস্থিত অন্যান্যদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। যারা প্রধান বিচারপতির বাস ভবনে ককটেল নিক্ষেপ করতে পারে, বাসায় হামলা করতে পারে, তারা আদালত প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। কারা এসব কাজ করেছে আমরা সবার নাম পেয়েছি।

সামনের দিনে আরও বড় হামলার আশংকা আছে কি না, আর নাশকতার নির্দেশনা দেশের বাইরে থেকে এসেছে কি না জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িত অনেককে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তারা স্বীকার করেছেন, আগুন লাগানো তাদের দায়িত্ব। তারা আগুন লাগানের পরে সিনিয়র নেতাদের কাছে ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে দেন। এরমধ্যে গ্রেপ্তাররা লন্ডনের কথাও বলেছেন। ঢাকায় (বিএনপির) সিনিয়র নেতাদের কথা বলেছেন।

নাশকতাকারীরা আগুন লাগানোর পর অনুতপ্ত কি না জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, অনেক দিন ধরেই তারা এ কাজ করছে। তারা এখন জানতে চায় এর শেষ কোথায়। বাসে আগুন লাগাচ্ছে, ককটেল নিক্ষেপ করছে, তাদের অনেকে গ্রেপ্তার হচ্ছে। কিন্তু তাদের জামিনের জন্য কেউ কাজ করছে না। এমনকি যিনি বাসে আগুন লাগাচ্ছেন, তিনি গ্রেপ্তার হলে তাকে জামিন করতে কেউ এগিয়ে আসবে কি না, এ বিষয় ভেবেই তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, সাধারণ মানুষের সম্পদে আগুন লাগিয়ে তা দেখিয়ে বেড়ানোর মতো ঘটনা না। এখানে একজন মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এই নাশকতা পছন্দ করছে না। আমরা বারবার বলছি নাশকতা সৃষ্টি করে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে পুলিশ পিছিয়ে যাবে না। আর বড় ভাইদের খুশি করা বা কোনো পদে বসার জন্য কাজটি করা ভুল, এটা ফৌজদারি অপরাধ। তাই এই কাজ করে তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক গ্রেপ্তার করা হবে।

বার্তা বাজার/জে আই