নৌকা মার্কায় ৫৭ সেকেন্ডে ৪৩ সিল মারার নির্বাচনের জন্য সরকার এখন বেসামাল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতের মতো আরও একটি একতরফা ভুয়া নির্বাচনের নামে তামাশা করতে সরকার বেপরোয়া এবং ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ৫৭ সেকেন্ডে নৌকা মার্কায় ৪৩ সিল মারার নির্বাচন করার জন্য সরকার এখন বেসামাল। জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিভিন্ন বর্গী বাহিনী। সরকারের প্রলয়ংকরী তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে গোটা বাংলাদেশ।

রিজভী বলেন, যুদ্ধকালীন নিস্তব্ধ আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যে জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ। ভিন্নমত প্রকাশ, বহুমাত্রিকতা, গণতন্ত্রের মৌল বিষয়গুলো চিরতরে অস্তাচলে যাত্রার অশনি সংকেত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণের অভাবনীয় অংশগ্রহণ দেখে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশে গোটা দেশকে রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, জনগণ এখন একাত্তর সালের মতো মুক্তিযুদ্ধের ভয়ঙ্কর পরিবেশে বসবাস করছে। পুলিশের অতি দলবাজরা এখন আওয়ামী লীগ লিমিটেড কোম্পানির কর্মচারীতে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দলদাস কর্মকর্তা-সদস্যরা পাক হানাদার বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভূমিকা এখন রাজাকারের মতো। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা হানাদার বাহিনীকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘর চিনিয়ে দিতো। তাদের লুটপাট তাণ্ডবে সহযোগিতা করতো। আর বর্তমানে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাজাকারদের মতো র‌্যাব-পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত আওয়ামী পুলিশ লীগকে গণতন্ত্রকামী মানুষের বাড়িঘর চিনিয়ে দিচ্ছে। তারা নিজেরাও মারধর করে পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছে। কেবল বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকই নন, একেবারে সাধারণ জনগণের ওপরও নজিরবিহীন জুলুম চালানো হচ্ছে।

এ সময় গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপি নেতাকর্মীরা নদীতে অবস্থান নিচ্ছে, গাছতলায়, বাঁশঝাড়ে, ঝোপে-জঙ্গলে রাতযাপন করছে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মোট ৩১৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা দেওয়া হয়েছে ১২টি, এতে ১ হাজার ৩৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে তাদের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, গ্রেপ্তারের ঝড় এমনভাবে চলছে, ময়মনসিংহের নান্দাইলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আটক হন ছাত্রদল নেতা। আজ নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাকিরকে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরদিন তার মরদেহ পাওয়া যায়। ফরিদপুরে বিএনপির এক আইনজীবী নেতাকে গ্রেপ্তার করতে এলে আতঙ্কে তার স্ত্রী মারা যান।

তিনি বলেন, চারদিকে শুধু শোক আর কান্নার পানি। একাত্তরের মতোই দেশের প্রতিটি জনপদে, গ্রাম-গঞ্জে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বন-বাদাড়-মাঠে-প্রান্তরে-ফসলের ক্ষেতে পলাতক জীবনযাপন করছে। রাত নামলেই জনপদে আতঙ্ক নামছে। প্রতিদিন বেশুমার গণতন্ত্রপন্থীদের নামে মামলা হচ্ছে। মামলা বাণিজ্যে থানাগুলো এখন রমরমা। ঘরে ঘরে এখন আতঙ্ক। স্বাধীনতাপরবর্তী প্রজন্ম, যারা হানাদার দেখেনি, তারা এখন রাজাকার এবং হানাদারদের দেখছে, সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি দেখছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ এবং স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রতিরোধ তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাইলে, পরিবারকে বাঁচাতে চাইলে, দেশ বাঁচাতে চাইলে বিরোধীদলের ডাকা প্রতিটি কর্মসূচি যেকোনো মূল্যে সফল করার আহ্বান জানান বিএনপির সিনিয়র এ যুগ্ম-মহাসচিব।

বার্তা বাজার/জে আই