বাজেট স্বল্পতার কারণে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

ইসি সচিব বলেন, বাজেট স্বল্পতার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অফিস সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না।

নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ইইউর ছয় সদস্যের একটি প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল গত ৮ থেকে ২৩ শে জুলাই বাংলাদেশ সফর করে। প্রতিনিধি দলটি মূলত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কর্মপরিধি, পরিকল্পনা, বাজেট, লজিস্টিকস ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে।

ইইউয়ের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের সরকারের প্রতিনিধি, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। দীর্ঘ সফরে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে কী ধরনের গুণগত পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করে ইইউ মিশনের এই প্রতিনিধি দল। সেই সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ ও দলগুলো অংশগ্রহণ করবে কি না তা জানার চেষ্টা করে।

পর্যবেক্ষক দলটির তৈরি করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

ইইউ’র তরফ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ইতোমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ইইউ সদরদফতর ব্রাসেলস থেকে আজ বা আগামীকালের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসি সচিব জাহাংগীর আলম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) মেইলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। সেই মেইলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, তারা গত জুলাই মাসের ৬ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে সভা করেছেন। সেইজন্য তারা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। তবে তাদের ২০০২২-২৩ অর্থ বছরের পূর্ণাঙ্গ টিম পাঠানোর যে আর্থিক বাজেটের বিষয়টি রয়েছে, সেটার কারণে তারা বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ টিম পাঠাতে পারবেন না। আমাদের (নির্বাচন কমিশন) সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন বলেও চিঠিতে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইসি সচিব বলেন, তারা আমাদের দেশে এসেছিলেন, আমাদের দেশের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। নির্বাচনের যে সময়, ওই সময়ে তাদের যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে। এই সমস্ত কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ দল নাও পাঠাতে পারে। তবে ছোট টিম আছে, আমাদের দেশে যারা আছেন তাদের দিয়ে করবেন কি না এই বিষয়ে তারা কিছু বলেননি।

জাহাংগীর আলম আরও বলেন, ইইউ নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কার কথা জানায়নি। তারা এটাও বলেছেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কার কথা চিঠিতে উল্লেখ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাংঙ্গীর আলম বলেন, চিঠিতে এই জাতীয় কোনো শব্দের উল্লেখ নাই। বাইরে যদি একটি কথার সাথে ডালপালা মিলিয়ে কেউ যদি বলে থাকে…।

এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘এটি সিইসি ভালো বলতে পারবেন। আর তারা পূর্ণাঙ্গ কথাটি উল্লেখ করেছেন। কাজেই ছোট দল পাঠাবে, নাকি এই দেশে যারা আছেন তারাই (পর্যবেক্ষণ) করবেন… কেননা, তারা যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। সিইসি আমাকে তাদের মেইলের বিষয়টি জানাতে বলেছেন। আমি সেটুকুই জানি।

জাহাংগীর আলম বলেন, পূর্ণাঙ্গ দল বলতে ২০-২৫ জনের একটি দল, তার সঙ্গে ক্যামেরা, স্যাটেলাইটসহ অনেক আর্থিক ব্যয় থাকে। বাজেট এলে তারা অন্য দল পাঠাবেন কি না; ছোট দল কি না, তাও মেইলে বলেননি। তারা পূর্ণাঙ্গ দল পাঠাবেন না, তা যে বাজেটের জন্য, সেটি বলেছেন।

রাজনৈতিক কোনো বিষয় ইইউয়ের মেইলে উল্লেখ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, একটি রাষ্ট্রের বিষয়ে আরেকটি রাষ্ট্র সেটি আনতে পারে? তারা কোনো শর্তের কথা বলেনি, বাজেটের কারণটি বলেছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আগামী অক্টোবরে বৈঠকের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রাক পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক আছে। এটি কমিশনের সিদ্ধান্ত। সচিব তো কিছু বলতে পারবেন না।

বার্তা বাজার/জে আই