নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ২১ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল; আমাদের স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রাখুন, তিনিই আমাদের স্বপ্ন। অক্টোবর নাগাদ ওরা মানচিত্রে থাবা দেবে; ক্ষমতায় আসার জন্য নয়, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য ওরা এটা করবে।

শনিবার বিকালে নগরীর ২নং রেইল গেট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, যারা বাংলাদেশকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে চায়, তাদের বলতে চাই— আমরা কারও পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াইনি। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে পার্টি অফিসে ঢুকে মনির ভাইকে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা বিচার পাইনি। নিজের এই হাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে পঞ্চাশটা লাশ দাফন করেছি। অনেককেই কবরস্থানে নিয়ে যেতে পারিনি। শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, সেই সময় দেশি-বিদেশিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। ওই বেইমান শকুনরা ষড়যন্ত্র করছে।

শামীম ওসমান আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে অনেকে আওয়ামী লীগ সাজতে চান, কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে নামে না। মোশতাক বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমাদের বাসায় ফোন করেছিল। আমার মা সেদিন খুনি মোশতাককে বলেছিলেন, সে (শামীম ওসমানের বাবা) যদি আপনার মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়, প্রথমে চেষ্টা করব তাকে হত্যা করতে, নয়ত নিজে আত্মহত্যা করব। আমি সেটার সাক্ষী। মনসুর আলী যে রুমে ছিলেন, আমার বাবাও সেখানে ছিলেন। তাকে অজু পর্যন্ত করতে দেয়নি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দুই হাত উপরে তুলে কাঁদছিলেন। বলেছিলেন—আমার বাবা-মাকে যেখানে মেরেছে, সেখানে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে চাই। তারা সেখানে নফল নামাজ পড়তে দেয়নি। যারা আমাদের জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে গণতন্ত্র চর্চা করতে পারব না। আমরা আমাদের বাংলাদেশকে বাঁচাতে চাই।

‘বীর বাঙালী ঐক্য গড়ো, বাংলাদেশ রক্ষা করো’- প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমান এমপির নতুন এই শ্লোগানে যখন লক্ষ্যাধিক মানুষ কণ্ঠ মেলাচ্ছিলেন, তখন পুরো নারায়ণগঞ্জ যেন প্রকম্পিত হচ্ছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক ছাড়াও প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে থাকা সাধারণ মানুষের মুখে এমন শ্লোগান যেন ছিল দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে ও দেশকে রক্ষার নতুন আহ্বান।

জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

দুপুর ১২টায় জনসভাস্থলে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরির পর শুরু হয় নেতাকর্মীদের আগমন। জেলার প্রতিটি উপজেলা ও থানা এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সভামঞ্চে উঠার আগেই ২নং রেইল গেট থেকে চাষাড়া পর্যন্ত ছিল জনস্রোত। ফলে মূল পয়েন্টে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নেন নগরীর শহীদ মিনার, সলিমুল্লাহ সড়কসহ আশপাশে।

বার্তাবাজার/এম আই