জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সকাল পৌনে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির পর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্ক যাবেন তিনি।

স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তার সফরকালীন আবাসস্থল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেসে যাবেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্ক পর্বে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে পারেন। তিনি নিজের বক্তব্যে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতে সাফল্য ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করবেন। এছাড়া বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, নিরাপদ অভিবাসন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসবে। এছাড়া প্রতি বছরের মতো এবারও সাধারণ বিতর্ক পর্ব চলাকালীন বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেখানেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সভা, যেমন- জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আরও কিছু সভায় অংশ নেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এসব সভা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এসব সভায় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরবেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিরসনে সম্মিলিত বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানাবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সেসব দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায় (মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি)।

সফর চলাকালীন জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার প্রধানরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘ মহাসচিবের গণহত্যাবিষয়ক উপদেষ্টা, সদ্য নির্বাচিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক।

নিউইয়র্ক সফর শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন যাবেন। ওয়াশিংটন সফর শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের লন্ডন যাবেন।
লন্ডন সফর শেষে বুধবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

বার্তাবাজার/এম আই