দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে কুকুরের কামড়ে ২ দিনে ২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। এদের অধিকাংশ শিশু এবং বয়োজ্যেষ্ঠ।

গত সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এসব রোগী কুকুড়ের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

তাদের মধ্যে দুজনের শরীর থেকে মাংসে কামড়ে নিয়ে গেছে কুকুর। তবে কুকুর নিধনে এবং কুকুরের ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং প্রাণী সম্পদ দফতরের কোন কার্যক্রম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। হঠাৎ করে কুকুর কামড়ে আক্রান্তের ঘটনায় আতংক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী কুকুরের কামরে আক্রান্তরা হলেন, জিল্লুর রহমান (৩৬), আব্দুল করিম (৪৫), রাজিয়া বেগম (৩০), লাবণ্য (৩), ইসমাইল হোসেন (৫০), শরিয়ত (৭), হাবিবুল্লাহ (৫), আরোবি আক্তার (৩), মাকছুদা বেগম (২৮), আনারুল ইসলাম (৩২), বানেসা বেগম (৪৫), ছোয়াইব ইসলাম (৩), মোজাফ্ধসঢ়;ফর রহমান (৫০), রাফিয়া আক্তার (৩), সুরুজ মিয়া (৩০), শ্যামলী কুন্ডু (৪৫), কাঞ্চন রানী (৩৫), পূর্ণিম রানী সরকার (৫২), সালেহা বেগম (৭৫), বুলবুলি বেগম (৪২) এবং অনন্ত কুমার (১৯)। তারা সকলে ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

কুকুর কামড়ে আক্রান্ত শিশু শরিয়তের (৭) বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গ্রাম এবং আশপাশে প্রতিদিন কুকুর কামড়ের ঘটনা ঘটছে। কুকুরের ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। এসব কুকুর নিধনে প্রশাসন কেন জানি ঘুমাচ্ছে।’

ঘোড়াঘাট পৌরসভার মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, ‘কুকুর কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা শুনেছি। গত প্রায় ৩-৪ বছর আগে পৌরসভার পক্ষ থেকে কুকুর নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আমরা আবারো কুকুর নিধন অভিযানের জন্য আবেদন করেছি। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ লোক নিয়ে এসে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নুরে আজমির ঝিলিক বলেন, ‘হঠাৎ করে মাত্র দুইদিনে কুকুর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ২১ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী একজন নারীর শরীর থেকে কামড় দিয়ে মাংস তুলে নিয়েছে কুকুর।

সকলকেই আমরা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিয়েছি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ আছে। আক্রান্ত স্থানে ক্ষতের ধরণ অনুযায়ী আমরা রোগীদেরকে ৩টি গ্রেডে বিভক্ত করে চিকিৎসা প্রদান করছি।’

বার্তা বাজার/জে আই