বাকস্বাধীনতা বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য সাইবার সিকিউরিটি আইন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় মন্ত্রী এ কথা জানান।

সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ নিয়ে ওই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

পৃথিবীর সকল দেশে দুটি অপরাধের কোনো জামিন হয় না। অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এসব অপরাধকে দেখা হয়। তার মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অপরাধ আর অন্যটি হলো সাইবার অপরাধ। এ দুটি অপরাধে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। তাই আমরাও এ অপরাধে কোনো ছাড়ের সুযোগ রাখিনি।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক মন্ত্রী বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন অনেক বেশি সংশোধন করা হয়েছে। কারও বাকস্বাধীনতা বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য সাইবার সিকিউরিটি আইন করা হয়নি। পৃথিবীর সকল দেশে দুটি অপরাধের কোনো জামিন হয় না। অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এসব অপরাধকে দেখা হয়।

তার মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অপরাধ আর অন্যটি হলো সাইবার অপরাধ। এ দুটি অপরাধে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। তাই আমরাও এ অপরাধে কোনো ছাড়ের সুযোগ রাখিনি।

সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ নিয়ে আয়োজিত সভায় আইনমন্ত্রীসহ
আইন সংশোধনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাইবার আইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেন বিপন্ন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৩২ নম্বর ধারা বাতিলসহ বেশকিছু ধারা সংশোধনীর জন্য যেসব সুপারিশ এসেছে, সাংবাদিকরা সাইবার আইন নিয়ে যেসব সংশোধনীর কথা বলেছেন- সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে মামলা হলে তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া উচিত। আমাদের একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টেও একটি মামলা শেষের বিষয়ে সময় ধরে দেওয়া আছে। নতুন আইনে না থাকলে, এটি সংযোজন করা হবে। আমরা লক্ষ্য রাখবো এটি যেন কারও হয়রানির কারণ না হয়। বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়- সে বিষয়ে নজর রাখা হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার সাজা বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতাধীন হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাব আনিসুল হক বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আগের মামলায় যেন কারাদণ্ড না দেওয়া হয় এবং জরিমানা যেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার বেশি না হয়- সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এ দিন সভায় নতুন আইন পর্যবেক্ষণ করে সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে কয়েক দফা সুপারিশ ও প্রস্তাব পেশ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)। সংগঠনটির করা তিনটি সুপারিশ হলো:

১. ফৌজদারি আইনে যেসকল অপরাধ ও সাজা নির্ধারণ করা আছে, এই আইনে তা সংযোজন করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

২. এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করে দুইশ’ বছরেরও বেশি পুরনো অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টকে নতুন করে জীবন দেওয়ার কোনো মানে হয় না। আমরা এর বিরোধিতা করি।

৩. আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪২ ধারায় অপরাধের সংজ্ঞা ও এই আইনের প্রয়োগ প্রক্রিয়া আরও সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন।

পরে এসব সুপারিশগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করার কথা জানান আইনমন্ত্রী।

বার্তা বাজার/জে আই