রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। ডাক্তার বলেছেন ওনাকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য। কিন্তু এই সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে এ সরকার গৃহবন্দি করে রেখেছে।’

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এ কথা জানান। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই সভার আয়োজন করে ‘উত্তরবঙ্গ ছাত্র ফোরাম’ ও ‘বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম’।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা প্রায়ই বলে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে, বিএনপি চক্রান্ত করছে। আরে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত তো তোমরা করছো। এই দেশের মানুষের সব অধিকার তোমরা কেড়ে নিয়েছো, ভোট দাও না। আবার একটা ভোটের দিকে যেতে চাও, যেন আগের মতোই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খোলা মাঠে ট্রফি নিয়ে চলে যাবে। দেশের মানুষ এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—সেটা আর সম্ভব হবে না। এবার আর ওয়াকওভার পাবে না আওয়ামী লীগ। এবারকার মানুষ রুখে দাঁড়াবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৬তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে ‘তোমার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ফখরুল বলেন, ‘আজকে আপনারা (নেতাকর্মীরা) আন্দোলনকে এমন একটা পর্যায় নিয়ে গেছেন, এখন সরকার প্রমাদ গুনছে, সরকার ভয় পেয়েছে। ভয় পাওয়ার কারণে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে— কীভাবে এসব গণতন্ত্রের সৈনিকদের পর্যুদস্ত করা যায়, তাদের আটকিয়ে রাখা যায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু দিন আগেও তারা (সরকার) বলেছে বিএনপি নাই। এখন যখন বিএনপি মাটি খুঁড়ে বেরোচ্ছে, তখন তারা আবার প্রমাদ গুনতে শুরু করেছে। তাই আজকে আমাদের লক্ষ্য একটাই—আমাদের আন্দোলনে, আমাদের সংগ্রামে বিজয় অর্জন করে ফিরে আসতে হবে। এর আগে ফিরে আসার সুযোগ নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার রাষ্ট্রকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলছে। এই সরকারকে পরাজিত করে জনগণের একটি সরকার নিয়ে আসতে হবে। এটা যদি আমরা না করতে পারি, তাহলে তারেক রহমানকে আমরা দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো না।’

বার্তাবাজার/এম আই