রং নাম্বারে পরিচয় হওয়ার পর বছর ধরে মোবাইলে চলে কথোপকথন। কথা চলতে চলতে একপর্যায়ে তা রুপ নেয় গভীর প্রেমে। সবশেষ প্রেমের টানে প্রেমিকের বাড়ীতে এসে দেখেন প্রেমিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। অতপর ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন দুজন। বৃহস্পতিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে।

প্রেমিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো: রাসেল (২৭) হাতিয়ার চরঈশ^র ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। প্রেমিকা রেবা আক্তার সুমি (২২) ব্রা²নবাড়িয়া জেলার নবিনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মো: আলাউদ্দিনের মেয়ে। সে দুই কন্যা সন্তানের জননী।

রাসেলের বড় ভাই রিক্সাচালক জামসেদ জানান, সুমির সাথে তার ভাই রাসেলের মোবাইলে প্রেমের বিষয়ে তারা আগে কিছুই জানতেন না। গত শনিবার (২৬ আগষ্ট) হঠাৎ সুমি বাড়ীতে কাউকে না বলে চেয়ারম্যান ঘাট হয়ে ট্রলারে নদী পাড়ি দিয়ে তাদের বাড়ী চলে আসে। রাসেল দৃষ্টিহীন তার সংসার চালানোর মত সক্ষমতা নেই।

এসব বিষয়ে সুমিকে বলার পরও সে রাসেলকে বিবাহ করবে বলে সিদ্বান্তে অটল থাকে। পরে দুজনকে নিয়ে আসা হয় হাতিয়া থানায়। পরে থানা থেকে সুমির গ্রামের বাড়ীতে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সুমির পিতা মাতা কেউ তাতে সাড়া দেয়নি। সবশেষ বহৃস্পতিবার দুজনের সম্মতিতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন করা হয়।

সুমি জানান, রাসেলের এক বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইলে পরিচয় হয় দুজনের। এর পর থেকে দুজনের প্রতিদিন মোবাইলে কথা হত। এতে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। তার দুটি সন্তান আছে। দুই বছর আগে স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক বিচ্চিন্ন হয় । এসব জেনেও রাসেল তাকে বিবাহ করবে বলে সম্মতি জানান। সুমি আরো জানান, রাসেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এটা সে আগে জানতেন না। রাসেল তাকে চোখে সমস্যা আছে বলে জানায়। কিন্তু একেবারে দৃষ্টিহীন এটা বলে নি। এখন যেহেতু চলে এসেছেন তাই ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে বিববাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি।

এদিকে বিবাহের পর থেকে এলাকার লোকজন এসে রাসেলদের বাড়ীতে ভীড় করছে। তাদের প্রেমের পরিনয়ের গল্প শুনছেন সবাই। পারিবারিক ভাবে দেখতে আসা লোকজনকে মিষ্টি খাওয়ানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এব্যাপারে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, বিষয়টি রাসেলের ভাই থানায় এসে বলেছেন। পরে পুলিশ পাঠিয়ে দুজনকে থানায় আনা হয়। সুমির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তার অভিবাবকের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কেউ আসেন নি। যেহেতু তারা দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক তাতে তাদের যে কোন সিদ্বান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে।

বার্তা বাজার/জে আই