টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনাকে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরাতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার কীর্তি মুছে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে এবং দেশে একটি অস্বাভাবিক সরকার বসানোর ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ওয়ান-এলিভেনের মতো অস্বাভাবিক সরকার বাংলার মাটিতে আমরা হতে দেব না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশি মুরব্বিদের ডাকছে, শেখ হাসিনাকে হটাতে। দরকার হলে আবার তত্ত্বাবধায়ক! আদালতের আদেশে তত্ত্বাবধায়ক মরে গেছে। সেটা কি আর জীবিত হবে? পার্লামেন্ট বিলুপ্ত হবে? সরকারের পতন হবে?’

কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্রকে বাঁচাতে খেলা হবে, মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে খেলা হবে৷ প্রস্তত হয়ে যান। নির্বাচনের আজ বেশি সময় বাকি নাই।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রস্তুত হয়ে যান। নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। আচরণ সংযত করতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান সংগঠনটির সাবেক এই সভাপতি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এই উন্নয়ন শীল কখনো হতো, যদি শেখ হাসিনা না থাকত?’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আজকে ভাবতে হবে। ১৫ বছর এ বাংলাদেশ, ১৫ বছর পর এই বাংলাদেশ। এক বিশাল রূপান্তর। এর রূপকার, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা, বঙ্গমাতার কন্যা শেখ হাসিনা।’

কাদের বলেন, ‘আজ কত চক্রান্তের খেলা। শেখ হাসিনাকে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তাকে নির্বাচনে হারাতে পারবে নাম সে জন্য ষড়যন্ত্র করে তাকে নির্বাচন থেকে হটাতে চাচ্ছে।’

 

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু উঠলে নাকি ভেঙে চুড়ে যাবে৷ জোড়া তালি দিয়ে পদ্মা সেতু হচ্ছে এই সেতুতে ওঠা যাবে না। জ্বালারে জ্বালা, অন্তর জ্বালা। জ্বলছে বিএনপি। জ্বলছে তারেক রহমান।’

এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনাকে ‘মানবতা মা’ আখ্যা দেন।

কাদের বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ থেকে তারুণ্যের ঢল আজ রাজধানী ঢাকার বুকে। তারুণ্যের মহাসমুদ্র এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান তার এই বিএনপির জন্ম দিতে গিয়ে সেই অনুষ্ঠানে উচ্চারণ করেছিল, আজ অঙ্গীকার করছি, পাকিস্তানের মতো ভাতৃপ্রতীম রাষ্ট্র বানাবো।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে এই বাংলাদেশ পাকিস্তান বানাবে কে? জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে জেনারেল এরশাদ, খালেদা জিয়া। জন্মদিনে ভুয়া কেক কেটে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, ১৫ আগস্টকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল।’

কাদের বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সমাবেশে দাঁড়িয়ে বলছি, রক্তাক্ত বিদায়ের ৪৮ বছর পরেও বঙ্গবন্ধু তোমাকে কেউ মুছে ফেলতে পারেনি।’

বার্তা বাজার/জে আই