নোয়াখালী হাতিয়ায় বঙ্গোপসাগরে চারটি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্যান্য ট্রলারের সহযোগীতায় ৫৭ জেলে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলো ও আরিফ নামে এক জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজ আরিফ হোসেন বুডিরচর জোড়খালী গ্রামের খবির উদ্দিনের ছেলে। সে সিরাজ ডুবাইর ট্রলারের ষ্টাপ। তার বাড়িতে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার দক্ষিণ পাশে মেঘনা নদীতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে এখনো কয়েকটি ট্রলার ভাসতেছে। মুঠো ফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ চলছে। তাদেরকে উদ্ধার করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ কোস্ট গার্ড।

মঙ্গলবার দুপুরের থেকে সন্ধা পর্যন্ত উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এই ঘটনা ঘটে।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সাগরে ডুবে যাওয়া দুটি ট্রলারের মাঝি মাল্লাদের নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারের দুটি ট্রলার উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পরে তাদেরকে নামারবাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ীতে পৌছে দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, ডুবে যাওয়া এই দুটি ট্রলার হলো জাহাজমারা ইউনিয়নের জংগলিয়ার ঘাটের জসিম মাঝির ট্রলার ও একই ঘাটের রিপন মাঝির ট্রলার। এই দুটি ট্রলারে ৩৩জন মাঝি মাল্লা ছিল।

এদিকে জেলেদের উদ্বারকারী এম ভি হামজা-১ ট্রলারের মাঝি এনায়েত হোসেন জানান, সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় ঘাটে ফিরে আসছিলেন তারা। হঠাৎ নিঝুমদ্বীপের ৪০ কিলোমিটার দক্ষিনে এলে তাদের পাশে একটি ট্রলার ডুবে যেতে দেখেন। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মাঝি মাল্লাদের উদ্বার করে নিঝুমদ্বীপ নামারবাজার ঘাটে নিয়ে আসেন। তিনি আরো জানান ঘাটে আসার কিছু সময় পর অন্য একটি ট্রলার আরো ১৭ মাঝি মাল্লাকে উদ্বার করে নিয়ে আসে। তাদেও ট্রলারটিও উত্তাল সাগরে ডুবে যায়।

এদিকে সকাল ১১টার সময় হাতিয়ার দমারচরের কাছে প্রবল বাতাসে ডুবে যায় আরো একটি ছোট মাছধরা ট্রলার। ট্রলারের মালিক ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন জানান, ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যাওয়ার পর ৯ মাঝি মাল্লা সবাই ট্রলারের একটি অংশ ধরে ভাসতে থাকে। পরে হাতিয়ার সূর্যমূখী ঘাটের একটি ট্রলার তাদেরকে উদ্বার করে ঘাটে নিয়ে আসে। মোবাইলে দূর্ঘটনার বিস্তারিত জেলেরা তাকে জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

হাতিয়া সূর্যমূখী ঘাটের ছালা উদ্দিন মাঝি বলেন, আবহাওয়া খারাপ দেখে আমরা উপরের দিকে উঠে আসার সময় একটি বোটের ৬ জনকে ভাসতে দেখে রশি পেলে তাদেরকে উদ্ধার করি, কিছুদূর আসার পর আরো ৫জনকে ভাসতে দেখে তাদেরকেও উদ্ধার করে সূর্যমূখী ঘাটে নিয়ে আসি।

এব্যাপারে হাতিয়া কোষ্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার পবীর কুমার পিও বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন ঘাট থেকে সাগরে একাধিক ট্রলার ডুবে যাওয়ার সংবাদ আসতে থাকে। এর মধ্যে নিঝুমদ্বীপে দুটি ট্রলারের জেলেদের উদ্বার করেছে স্থানীয় জেলেরা। অন্যদিকে সূর্যমূখী ঘাটের একটি ট্রলার ৯ মাঝি মাল্লাকে উদ্বার করার সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া বুড়িরদোনা ঘাটের একটি ট্রলার সাগরে ইঞ্জিন বিকল হলে কোস্টগার্ড সদস্যরা গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

অপরদিকে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট লঘুচাপে ৩ নম্বর সর্তকতা সংকেতের কারণে হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বেড়েছে। জোয়ারে সকাল থেকে নিঝুমদ্বীপসহ হাতিয়ার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বার্তাবাজার/এম আই