কোন রকম আমেজ-উদ্দীপনা ছাড়াই শেষ হলো চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহন। দু’একটি কেন্দ্র ব্যথিত বাকী কেন্দ্র গুলো ছিলো অনেকটা ফাঁকা। ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকায় অধিকাংশ কেন্দ্রে দিনভর অলস সময় পার করেছেন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তারা।

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা শুরু থেকেই ভোটারদের উপস্থিতিকে মূল চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করলেও কার্যত তারা ভোটারদের কেন্দ্রে টানতে পারেননি। বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপরীতে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এমন অবস্থা বলে দাবী সাধারণ ভোটারদের। যদিও নৌকার প্রার্থী জোরালো প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছয়জন। তারা হলেন- নৌকা প্রতীকে মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির সামসুল আলম, সোনালি আঁশ প্রতীকে তৃণমূল বিএনপির দীপক কুমার পালিত, ছড়ি প্রতীকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের রশিদ মিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রকেট প্রতীকে মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও বেলুন প্রতীকে মো. আরমান আলী।

দিনব্যাপী নগরীর নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে হাতেগোনা দু’একটি কেন্দ্র ছাড়া কোনো কেন্দ্রে ভোটারের সারি দেখা যায়নি। যারা ভোট প্র‍য়োগ করেছে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে এসে সরাসরি বুথে ভোট দিয়ে চলে যেতে দেখা গেছে।

নগরীর নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ১৯টি বুথে সকাল সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৪ শতাধিক ভোট পড়েছে। এই কেন্দ্রে মোট পুরুষ ভোটার ৩৮১৬ এবং মহিলা ভোটার ৩৩৮৫। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সুজন কান্তি দাশ বার্তা বাজারকে বলেন, সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে। এখানে নৌকা ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীর এজেন্ট ছিল না।

আমবাগান এলাকায় রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গার্লস হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে মোটামুটি ভোটারের উপস্থিতি ছিল। দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে ২ হাজার ৪৩২ জন ভোটারের মধ্যে ৩৫০ জন ভোট দিয়েছেন। ওই কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীদের এজেন্ট ছিল না বলে বার্তা বাজারকে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার মো. তোফায়েল হোসেন।

লালখান বাজারে শহীদনগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারের কোনো সারিই দেখা যায়নি। সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে একজন, দু’জন করে ভোটার কেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সামসুল আলম গনমাধ্যমকে বলেন- ভোটের আগে প্রচারনা করতে গিয়ে ভোটারদের ভয়ভিতি ও শংকার কথা শুনেছি। সে জন্য ভোটের দিন সেনাবাহিনীর টহলের ব্যবস্থা করতে আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি। এটা যদি করতো, তাহলে মানুষ হুড়হুড় করে ভোটকেন্দ্রে চলে আসতো। এখন মনে হয় ৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে কিনা সন্দেহ।

তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী দীপক কুমার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারনে নির্বাচনের পরিবেশ সুস্থ। ভোটারদের উপস্থিতি কম হওয়ার কারন হিসেবে তিনি বলেন- আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনিই জিতে যাবেন, ভোট দেয়ার দরকার কী! এজন্য ভোটার উপস্থিতি একদম হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কম ছিলো। সল্পমেয়াদের উপনির্বাচন হিসেবে হয়তো ভোটারদের আগ্রহ ছিলোনা।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর, খুলশী, পাঁচলাইশের একাংশ) আসনে মোট আটটি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৩৩। এর মধ্যে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯২৯ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ জন নারী ভোটার। মোট ১৫৬টি কেন্দ্রের ১ হাজার ২৫১টি বুথে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৩ বারের নির্বাচিত এমপি ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আফছারুল আমীন। গত ২ জুন তার মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

বার্তা বাজার/জে আই