বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের ঢাকায় ঠুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন তারা পথে পথে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

সমাবেশে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমি ১৯৭১ সালে এ দেশ স্বাধীন করেছিলাম। কিন্তু এ স্বাধীনতার জন্য আমরা কী পেয়েছি? স্বাধীনতার ৫২ বছর পর আমরা আজ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। গণতন্ত্র নেই, বাকস্বাধীনতা নেই, মানুষের মৌলিক অধিকার নেই, সভা-সমাবেশ করার অধিকার নেই। তাই আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ৫২ বছর পর এখানে এসেছি।’

জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জিয়া সাহেব মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। তার আহ্বানে আমরা যে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম সেই শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে আবার এই পল্টন ময়দানে এসেছি।

আগামীকাল তারেক জিয়া যে আহ্বান জানিয়েছেন সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ ঘোষণা করে আমরা স্বৈরাচার হাসিনাকে পতন করব ইনশাল্লাহ।’

এক দিন আগে কেন ঢাকায় এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা স্বৈরাচার সরকার। বিগত দিনে বাস-ট্রাকসহ সবকিছু বন্ধ করে পুলিশ বাহিনী আমাদের কোনো জায়গায় যেতে দেয়নি। তাই আমাদের এই সৈনিকরা ৩-৪ দিন আগে এই পল্টন ময়দানে এসে আমাদের সাথে সহযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করবে ইনশাল্লাহ।’

আমাদের সহযোদ্ধাদের টর্চার করা হয়, মোবাইল সার্চ করা হয়। তাই ‘গেরিলাভাবেই’ এখানে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান বিএনপির সমাবেশে আসা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

সমাবেশে যোগ দিতে আসা আরও একজন এক দিন আগে আসার কারণ জানিয়ে বলেন, ‘পথেঘাটে প্রশাসনের লোকজন বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছে। গাড়ি চেক করে বিএনপির লোকজনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

সমাবেশে আসার পথে ফেনী থেকে দুজনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করে আরও একজন বলেন, ‘আমাদেরও ধরা হয়েছিল কিন্তু আমরা অন্য কৌশলে এখানে চলে আসছি।’

গাড়ি থেকে নামিয়ে চেক করার অভিযোগ এনে বিএনপির এক কর্মী বলেন, ‘সমাবেশে যারাই আসতেছে তাদের পথে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং যারা বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে পেরেছে তারাই আসতে পেরেছে। আর বাকিদের নামিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’

এ ছাড়া প্রশাসন সমাবেশে আসতে দিচ্ছে না- এমন অভিযোগ করে বিএনপির আরও এক কর্মী বলেন, ‘যদি আমরা কালকে আসি তাহলে আমাদের আসতে দিবে না, আমরা সমাবেশে উপস্থিত হতে পারব না। এজন্য এই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে পতনের জন্য এক দিন আগে এখানে চলে এসেছি। যাতে আমরা এ সমাবেশকে সফল করতে পারি।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জনশ্রোত ঠেকানোর জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমাদের মহাসমাবেশ চলাকালে লঞ্চ-বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই আমরা এই গণতন্ত্রকামী মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য এবং নিজের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য এক দিন আগেই সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকায় চলে এসেছি।’

বার্তাবাজার/এম আই