টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম্য মাতাব্বর সুলতানের দেয়া অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেও অল্পতে প্রাণে বেঁচে যায় বৃদ্ধ আঃ আজিজ (৮০) পরে দেড় মাস মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে ১৬ জুলাই চলে যান না ফেরার দেশে। ঘটনাটি ঘটেছে মলাজানি গ্রামে।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী ছাহেরা বেগম বাদী হয়ে সুলতানসহ তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে।

নিহতের স্ত্রী ছাহেরা বেগম ও আদালতে দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, নিহত আঃ আজিজ জমি জমা টাকা পয়সা না থাকলেও অত্যন্ত সরল প্রকৃতির সাদা মাঠা জীবন যাপন করতেন। তার সাথে কোন দিন কারো সাথে দুই কথা হতোনা অর্থৎ ৫ জন লোক কোথাও একত্রে থাকলে সে সেই খানে যাইত না বিশেষ করে খারাপ প্রকৃতির লোক দেখলে সে এড়িয়ে চলেন। যে কারণে সুলতান অবঃ মিলিটারিকে ব্যক্তিগত ভাবে সে পছন্দ করতেন না। তা ছাড়াও গত ইউপি নির্বাচনে সুলতান পছন্দের লোককে সে ভোট না দেওয়ায় সুলতান আরও ক্ষিপ্ত ছিল। যে কারণে গত ২৩ মে সুলতান তার ভাই ভাতিজাসহ তার বাহামভূক্ত লোকজন নিয়ে হঠাৎ সকাল বেলায় আমার বাড়িতে আসে এবং বিষ মেরে মুরগী মারা যাওয়ার অপরাধে তাকে এক তরফাভাবে দোষী সাবুস্ত করেন। ওই সময় আমার স্বামী বারবার অস্বীকার করে কান্নাকাটি করলেও সুলতান ও তার লোকজন তার কথা না নিয়ে জোরপূর্বক সাদা
কাগজে স্বাক্ষর নেয়। আমার স্বামী আঃ আজিজ মিথ্যা অপবাদের জ্বালা সইতে না পেরে হাজিরানা মজলিসের উপস্থিততে ঘরের পাশে আম গাছে ফাঁশি দিতে যায়। ওই মূহুর্তে সুলতান ও তার লোকজন তিরস্কার করে বলে আম পাড়ার জন্য উঠলি? পরে আঃ আজিজ মূহুর্তেই রশিতে ঝুলে ফাঁসি দিলে রশি ছিড়ে প্রথমে ঘরের চালের উপর পরে তারপর মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। এই অবস্থায় তাকে প্রথমে ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয় অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাংগাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টাকা পয়সার অভাবে ৭দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ীতে নিয়ে আসে। অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে দেড় মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১৬ জুলাই বিকেল ৪টায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

সরজমিনে গেলে নিহতর কন্যা পারভী, ছেলের বউ রোজিনা ছোট ভাই আফসার আলী জানান, সুলতান (অবঃ) মিলিটারি গ্রামের মধ্যে প্রভাবশালী অত্যাচারী ঘুষখোর লোক তার প্রভাবে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। এমন কোন অপকর্ম নাই যা তিনি করেন তার পরেও গ্রামের মানুষ তার ভয়ে কিছু বলেনা। অতীতে যারা সুলতানের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে তারাই ক্ষতির আওতায় পরেছে, যে কারণে মানুষ ভয়ে মুখ খোলেন না। তিনি অল্পতেই মানুষের খুটি নাটি বিষয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে দিয়ে দুই পক্ষের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়াই তার কাজ।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে ঘটনা এরিয়ে গিয়ে সুলতান মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি অসুস্থ ঢাকায় আছি পরে কথা বলব।

ঘাটাইল থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ লোকমান হোসেন জানান, এ বিষয়ে ডিবিতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মরদেহ পোষ্টমোর্টেম করে দাফন করা হয়েছে পোষ্ট মোর্টেম এর রিপোর্টের হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তাবাজার/এম আই