আগামী ১ আগস্ট রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে জামায়াত আহুত সমাবেশে দলে দলে যোগদান করে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুর রহমান মূসা।

বুধবার (২৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মী ও ওলামায়ে কেরামের নিঃশর্ত মুক্তি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যর্থ, জুলুমবাজ ও নৈশ ভোটের সরকারের প্রতি গণঅনাস্থা জানাতে দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের নগরবাসীকে স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সফল করতে আহ্বান জানাচ্ছি।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের পরিচালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন, মাওলানা মুহিবুল্লাহ, মু. আতাউর রহমান সরকার ও নাসির উদ্দীন, শিবির নেতা সালাহ উদ্দীন, আব্দুর রহিম ও আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

আব্দুর রহমান মূসা বলেন, আওয়ামী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই দেশ ও জাতির প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নেই। তারা বিগত প্রায় ১৫ বছরে জনগণের কল্যাণে কাজ না করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছে। সরকার সংশ্লিষ্টদের বৃহৎ একটি অংশ দেশ থেকে নির্বিবাদে অর্থপাচার করে বিদেশে অর্থের পাহাড় বানিয়েছে। আর তাদের এই অপকর্মকে নির্বিঘ্নে করার জন্য এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই জামায়াতের শীর্ষনেতাদের একের পর এক হত্যা করে দেশের পবিত্র জমিনকে রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত করা হয়েছে। সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তর আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ প্রায় সকল শীর্ষনেতাদের কারা অন্তরীণ করে জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

তিনি সরকারকে নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ও মহানগরী আমীর সেলিম উদ্দিনসহ শীর্ষনেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, দেশের মূল্য পরিস্থিতি এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত বাজার সিন্ডিকেটের কারণেই দেশে মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে দেশে অন্যায়-অনাচার, অপরাধ প্রবণতা ও পাপাচারের মহোৎসব চলছে। এসব বিষয়ে দেশের বরেণ্য আলেম-উলামা সোচ্চার ছিলেন বলেই তাদেরকে জালিমের জিন্দানখানায় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী নায়েবে নবীদের অসম্মান করে কোন সরকারের শেষ রক্ষা হয়নি; আর কারো হবেও না।

তিনি জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করে অবিলম্বে সম্মানে মুক্তির দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বার্তাবাজার/এম আই