২২ বছর বয়সী গৃহবধূ তামান্না আক্তার (ছদ্মনাম)। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই গৃহবধূ প্রতিদিনের মত গত শুক্রবার নিজ বাড়িতে সাংসারিক কাজ করছিলেন। তার স্বামীও একজন প্রতিবন্ধী। ওইদিন বিকেলে তার স্বামী, শশুর ও শাশুড়ী জমিতে কাজ করতে যায়। এসময় তারই এক প্রতিবেশী কবিরুল ইসলাম কবির (৪৫) তার ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

গত শুক্রবার (১৪ জুলাই) দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ২নং পালশা ইউনিয়নের চৌরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিবন্ধী ওই গৃহবধূ চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং লোকজনের উপস্থিতি দেখে অভিযুক্ত কবিরুল পালিয়ে যায়।

ঘটনার একদিন পর রবিবার (১৬ জুলাই) সন্ধায় ভূক্তভোগী ওই গৃহবধূর বাবা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত কবিরুল ইসলাম কবির (৪৫) ঘোড়াঘাট উপজেলার চৌরিয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক।

মামলার বাদী আব্দুল মালেক জানান, গত ৩ বছর আগে তিনি তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে বাড়ির পাশের আরেক প্রতিবন্দী ছেলের সাথে বিয়ে দেয়। গত শুক্রবার বিকেলে তার জামাই ও বিয়াইসহ অন্য সদস্যরা কাজের জন্য জমিতে যায়। এসময় অভিযুক্ত কবিরুল ঘরে প্রবেশ করে তার প্রতিবন্দী মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কবিরুল এর আগেও আরো এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন।

অভিযুক্ত কবিরুল ইসলাম কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে আসল ঘটনা ও রহস্য উন্মোচিত হবে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ভূক্তভোগী ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে আইনে একটি মামলা করেছেন। ঘটনার পরপরেই অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাকে গ্রেফতারে আমরা সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের থানা পুলিশের একটি টিম এটি নিয়ে কাজ করছে।

বার্তাবাজার/জে আই