জাতীয় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে বারবার ছিনিমিনি খেলেছিল। বাকশালও তারা কায়েম করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় আনার জন্য কোনো কোনো মহল খুবই তৎপর ছিল। কারণ আমাদের গ্যাস বিক্রির একটা প্রস্তাব ছিল। আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম যে গ্যাস বিক্রি করব না। অথচ খালেদা জিয়া লিখে দিয়েছিল যে, গ্যাস বিক্রি করবে। বিষয়টি তখন অনেক পত্রিকায়ও এসেছে।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে থেকেই তারা (বিএনপি) আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তারা মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। আর নির্বাচনের দিন আমাদের আওয়ামী লীগের নির্বাচিত চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে নেতাকর্মী কেউই ঘরে থাকতে পারেনি। সমগ্র বাংলাদেশে সেনাবাহিনী নামিয়ে দিয়ে তারা যে নির্যাতন চালিয়েছিল, সেটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তারা আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, চোখ তুলে নিয়েছে, হাত কেটে দিয়েছে, মেয়েদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমলে দক্ষিণাঞ্চলে কোনো সাংবাদিক যেতে পারতো না। কোনো সংবাদ পরিবেশন করতে পারতো না। একমাত্র জনকণ্ঠ পত্রিকা জোর করে কিছু সংবাদ পরিবেশন করতো। তাদের কিছু সাংবাদিক গোপনে যেত এবং তথ্য আনতো। পরবর্তীতে তাদের দেখাদেখি অনেক পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন শুরু করে। এটা হলো বাস্তবতা। বিএনপির নির্যাতনের সঙ্গে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেই নির্যাতন চালিয়েছিল শুধু সেটার সঙ্গেই তুলনা করা যায়।

সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপি কতো হাজার মেয়ের ওপর যে পাশবিক অত্যাচার। রাজশাহীর সেই ছয় বছরের রাজুফা। তার বাবা-মা নৌকায় ভোট দিলো কেন, সেজন্য তাকে গ্যাং র‌্যাপ করা। মহিমাকে র‌্যাপ করা, সে তো আত্মহত্যা করেছে। খুলনার রুমা থেকে শুরু করে হাজার হাজার ঘটনা। তারপরই সেই সঙ্গে শুরু করলো অপারেশন ক্লিন হার্ট। সেনাবাহিনী পাঠিয়ে পাঠিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ এবং এক একজন নেতাকর্মী বা যাকে খুশি ধরে নিয়ে অমানবিক অত্যাচার।

বার্তা বাজার/জে আই