২০, অক্টোবর, ২০১৮, শনিবার | | ৯ সফর ১৪৪০

সরকারকে ‘সোজা রাস্তা’ দেখালেন ফখরুল

সরকারকে ‘সোজা রাস্তায়’ আসার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নইলে সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। এই সোজা রাস্তা বলতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার সঙ্গে এবং সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসাকে বুঝিয়েছেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘এর বিকল্প নেই। অন্যথায় সকল দায় দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০ দলের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। দেশের পরিস্থিতি শ্বাসরুদ্ধকর দাবি করে ফখরুল বলেন, ২৫ লক্ষ নেতাকর্মীদের নামে মামলা, খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রাখার কারণ একটাই। ক্ষমতাসীন দল ‘জেনে গেছে’ খালেদা জিয়া মুক্ত হলে, বিএনপি নির্বাচনে গেলে তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’ ‘খালেদা মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে সরকারের পতন ঘটাবে।’ খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও সেখানে তিনি নূন্যতম চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেন ফখরুল। নির্বাচন কমিশন নিজেরাই বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘কমিশনে আজকে যে সংকট তৈরি হয়েছে এইটাই বাংলাদেশের সংকট।’ ‘বহু আগে থেকেই বলে আসছি, এই নির্বাচন কমিশন যোগ্য নয়। বাস্তবতা হলো এই কমিশনের নিজস্ব কোনো স্বাধীনতা নেই। তারা যেনতেন নির্বাচন করে সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।’ আগামী ২৩ অক্টোবর সিলেটে নবগঠিত ঐক্যফ্রন্টকে সিলেটে সমাবেশ করতে না দেয়ারও সমালোচনা করেন ফখরুল। বলেন, ‘সরকার বলছে নাশকতা হবে দেওয়া যাবে না। অথচ চরমোনাই পীর সাহেবকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর এরশাদ সাহেবকে সরকারি টাকায় ঢাকা অচল করে সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।’ ‘বিএনপি প্রতিহিংসা করবে না’ ক্ষমতায় আসতে পারলে বিএনপি কোনো রকম প্রতিহিংসা করবে না বলে আওয়ামী লীগকে অভয় দিয়েছেন ফখরুল বলেন, ‘সরকারি দলকে আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা ভয় পাবেন না।’ ‘আমাদের নেত্রী জেলে যাওয়ার আগে বলেছিলেন যে, আমরা কোন প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। আমরাও বলছি কোন প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না, কাউকে করতে দেয়া হবে না।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি যথেষ্ট সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। এর একটি মাত্র কারণ, যে আমার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা বিশ্বাস করি যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারের পরিবর্তন হবে।’ ‘সেই নির্বাচনটা অবশ্যই সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন ক্ষমতা হারালে তারা নাকি রোহিঙ্গা হয়ে যাবে; যে সম্পদ তারা অর্জন করেছে তা ভোগ করতে পারবে না। আবার কেউ বলছেন, লাশ পড়বে। জনগণের জানার অধিকার রয়েছে যে, কী এমন অপরাধ করেছেন আপনারা যে ক্ষমতা চলে গেলে আপনাদের রোহিঙ্গা হতে হবে?’ জাগপার সহসভাপতি তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, শফিউল আলম প্রধানের ছেলে রাশেদ প্রধান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ।