২৩, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০

অতিরিক্ত বিলের চাপে নবজাতক হাসপাতালে রেখে পালালেন বাবা-মা!

অতিরিক্ত বিলের চাপে কুমিল্লা নগরীর একটি হাসপাতলে চিকিৎসাধীন নবজাতক সন্তানকে রেখে পালিয়ে গেছে বাবা-মা। বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২ লক্ষাধিক টাকা বিল আদায় তো দূরে কথা, ফেলে যাওয়া শিশুটির রক্ষণাবেক্ষণে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জেলা সিভিল সার্জন আশ্বাস দিয়েছেন, বাচ্চাটির চিকিৎসার ব্যয়ভার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বহন করা হবে। তবে চিকিৎসা সেবায় জড়িতদের আরো মানবিক হওয়ার আহবান তাঁর। গত ১৮ আগস্ট অপরিণত ও অপেক্ষাকৃত কম ওজনের সন্তানকে বাঁচাতে কুমিল্লায় নিয়ে আসেন চাঁদপুরের শাহ আলম ও রোকেয়া দম্পতি। চিকিৎসার জন্য সন্তানকে ভর্তি করান নগরীর ঝাউতলার সিভিক স্কয়ারের মা ও শিশু স্পেশালাইজড হসপিটালে। ৬ দিন চিকিৎসার পর ২৪ আগস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের হাতে তুলে দেন ২ লক্ষাধিক টাকার বিলের রশিদ। বিলের ফিরিস্তি দেখে আইসিইউতে থাকা সন্তান ফেলে পালিয়ে যান দারিদ্র্যপীড়িত বাবা-মা। বিষয়টি এখন গড়িয়েছে পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন পর্যন্ত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাত্র ৭০০ গ্রাম ওজন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নবজাতকের চিকিৎসায় ইতিবাচকভাবে সবকিছু চলছিল। এ ক’দিনে বেশ আরোগ্যও হয় শিশুটির। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় বিল নিয়ে। ৬ষ্ঠ দিনে নবজাতকের চিকিৎসার বিলের পরিমাণ ওই দম্পতিকে জানানো হয়। টাকার অঙ্কে ৬ দিনে দুই লাখ টাকা বিল হয়েছে। ওই বিল দেখেই সবার অজান্তে সন্তানকে হাসপাতালের এসআইসিইউতে রেখেই গত ২৪ আগস্ট হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান দম্পতি। দিনভর বাবা-মায়ের সন্ধান না পেয়ে ওই শিশুর বিষয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সোমবার ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিশুটির চিকিৎসা খরচ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে বলে জানান কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বদিউল আলম। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য সেবায় অনেকটা এগিয়ে গেলেও মানবিক দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসা সেবায় জড়িতদের আরো মানবিক হওয়ার আহবান জানান তিনি। কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আবু সালাম মিয়া বলেন, ধারণা করা হচ্ছে চিকিৎসায় অতিরিক্ত ব্যয়ভারের কারণেই নবজাতকটির পিতা-মাতা পালিয়ে গেছে। তবে হাসপাতালে দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী তাদের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার আবু সাঈদ মোঃ তারেক জানান, শিশুটি আগের চেয়ে সুস্থ আছে। তবে তার এখন মায়ের বুকের দুধ প্রয়োজন।