১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

আন্তর্জাতিক আসরে খেলার জন্য যে ৫ তারকা নিজের দেশ ছেড়েছেন

আপডেট: জুন ৮, ২০১৮

আন্তর্জাতিক আসরে খেলার জন্য যে ৫ তারকা নিজের দেশ ছেড়েছেন

অন্যান্য খেলায় ব্যাপারটা তুলনায় অস্বাভাবিক হলেও, ক্রিকেটে এই ব্যাপারটা রয়েছে। বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকাকে আমরা দেখেছি, যারা সফল ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উদ্দেশে নিজের দেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। কারণ, ছোটো থেকেই একজন ক্রিকেটারের লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। না হলে নিজের প্রতিভাকে জানান দেওয়া সম্ভব নয়। অনেকে আছেন অন্য দেশে জন্মেছেন, কিন্তু যে কোনও কারণে আরেক দেশে গিয়ে বসবাস করার কারণে সে দেশের নাগরিক। আবার এমন উদাহরণও আছে, এক দেশের নাগরিক, আরেক দেশে বসবাস করতেন, ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়তে সেই দেশেই আবার ফেরত এসেছেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে টেস্টের আসরে প্রথম উদাহরণ আব্দুল হাফিজ করদার। তিনি ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের হয়েই ক্রিকেট খেলেছেন। একদিনের আন্তর্জাতিক আসরে প্রথম এই উদাহরণ তৈরি করেন কেপলার ওয়েলস। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা, দুই দেশের হয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। এরকম উদাহরণ অনেক আছে। তার মধ্যে সবাই যে বড় মাপের স্টার হয়ে উঠতে পেরেছেন এমন নয়। আবার সবাইকে এই তালিকায় স্থান দেওয়াও সম্ভব নয়। তার মধ্যে থেকেই পাঁচ ক্রিকেটারকে বেছে নেওয়া হল –

এক. লুক রঁঞ্চি: অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড দুই দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন লুক। জন্মসূত্রে তিনি কিউই। ছোটো বেলায় অস্ট্রেলিয়ায় চলে গিয়েছিলেন বসবাস করতে। সেখানেই ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক আসরে অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ২০০৮ সালে। কিন্তু, মাত্র চারটি সুযোগেই ক্যারিয়ার থেমে যাওয়ায় ২০১২ সালে নিজের দেশে ফিরে আসেন। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ডেবু। আর তার দু’বছর পর ২০১৫ সালে পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কিউই টিম ফাইনালে ওঠে। আর তার পিছনে অন্যতম ভূমিকা নিয়েছিল রঁচির পারফরম্যান্স। অসাধারণ উইকেটকিপিং আর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য সুনাম আদায় করা এই কিউই স্টার ২০১৭ সালে অবসর নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আসরে ৮৫টি ওয়ানডে এবং ৩৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন রঁঞ্চি।

দুই. জোনাথন ট্রট: ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত ট্রটের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে। প্রোটিয়া টিমের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটও খেলেছেন। কিন্তু, ২০০৩ সালে তিনি তাঁর ব্রিটিশ পাসপোর্ট কাজে লাগান ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে কাউন্টি খেলার উদ্দেশে। আর তারপর ২০০৭ সালে ইংলিশ ক্রিকেট টিমে ডাক পান। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫২টি টেস্ট ও ৬৮টি ওয়ান-ডে ম্যাচ খেলেন ট্রট। আন্তর্জাতিক আসরে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রান রয়েছে তাঁর। তিনবারের অ্যাসেজ সিরিজ জয়ী টিমের সদস্য ট্রট ২০১১ সালে উইজডেন ও আইসিসি’র বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মান অর্জন করেন। ২০১৫ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানান এই সফল প্রতিভা।

তিন. ইমরান তাহির: বর্তমানে আধুনিক ক্রিকেটে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে অন্যতম সেরা স্পিন বোলার তাহির। পাকিস্তানে জন্ম। সেদেশেই ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ক্রিকেট খেলার পর পাকিস্তান এ দলেরও সুযোগ এসেছিল। কিন্তু, লেগস্পিনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারায় দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে আসেন তাহির। এক দক্ষিণ আফ্রিকান মহিলাকে বিয়ে করেন নাগরিকত্ব পেতে। ২০১১ সালে প্রোটিয়া টিমের হয়ে ডেবু হয় আন্তর্জাতিক আসরে। ২০টি টেস্ট, ৮৫টি ওডিআই আর ৩৬টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক মিলিয়ে লেগস্পিনার তাহিরের উইকেট সংখ্যা বর্তমানে ২৫০টিরও বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের ইতিহাসে তাহির একমাত্র স্পিন বোলার যিনি ১০০টির বেশি ওয়ানডে উইকেট নিয়েছেন। আর সর্বকালের সেরাদের তালিকায় প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে ন’নম্বরে রয়েছেন ইমরান।

চার. অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস: অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একসময় আন্তর্জাতিক আসরে দাপটে ক্রিকেট খেলেছেন সাইমন্ডস। বোলারদের ত্রাস ছিলেন তিনি। অলরাউন্ডার সাইমন্ডসের পেস বোলিংও উদ্বেগের কারণ ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্য। জন্ম ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে। তাকে এক ইংরেজ দম্পতি দত্তক নিয়েছিলেন। খুব ছোটোবেলাতেই তাদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন অ্যান্ড্রু। ১৯৯৪-৯৫ সালে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকায়, ১৯৯৫ সালেই ইংল্যান্ড এ দলে ডাক পান। কিন্তু, রাজি হননি সাইমন্ডস। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক আসরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ডেবু হয় তার। ১৯৮টি ওডিআই, ২৬টি টেস্ট ও ১৪টি টি-টিটোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে খেলা সাইমন্ডস টিমের অজি টিমের অন্যতম সেরা অস্ত্র ছিলেন। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিল সাইমন্ডসের অলরাউন্ড প্রতিভা।

পাঁচ. কেভিন পিটারসেন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম বর্ণময় প্রতিভা। কেভিনের ব্যাটিং ছিল দৃষ্টিনন্দন। ইংল্যান্ডের হয়ে ১০০টিরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলা পিটারসেনের অবসর নাটকীয় পরিস্থিতিতে। আন্তর্জাতিক আসরেও ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান তিনি। সাড়ে তেরো হাজারেরও বেশি রান করেছিলেন। জন্মসূত্রে কেপি দক্ষিণ আফ্রিকান। কিন্তু, সেদেশের কোটা সিস্টেমে বিরক্ত হয়ে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই নাটাল প্রদেশ ছেড়ে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। কেপি’র মা আবার ইংল্যান্ডের মেয়ে। ইংল্যান্ডে এসে নটিংহ্যামশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের হয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন পিটারসেন। তারপর ২০০৫ সালে অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের হয়ে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাটানো এই বিরল প্রতিভা খুব অল্প সময়ে অনেক সাফল্য অর্জন করেছিলেন।