১৬, জানুয়ারী, ২০১৯, বুধবার | | ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

নিস্তেজ ঐক্যফ্রন্ট!

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০১৯

নিস্তেজ ঐক্যফ্রন্ট!

নির্বাচনের পরদিন সোমবার জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়নি কোন কর্মসূচী পালনের। মূলত বৈঠকটিতে আলোচনা হয় নির্বাচনে জয়লাভ করা ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ নিয়ে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কারচুপির অভিযোগ তুললেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল থেকে জয়ী প্রার্থীরা বলছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার ইঙ্গিতই দিয়েছেন তারা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সাংসদদের শপথ। শপথ গ্রহণের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে না যাওয়ার ইঙ্গিত বিএনপির ৫ নেতা দিলেও ঐক্যফ্রন্টের শরীক গণফোরামের ২ নির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নিতে চান বলেই জানিয়েছেন গণমাধ্যমে। এখন অপেক্ষা বিএনপির সিদ্ধান্তের।

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বর্তমানে কর্মসূচির চেয়ে জনসমর্থন বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারা সারাদেশের যেসব কেন্দ্রে ভোট কারচুপি, এজেন্ট বের করে দেয়া, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে জনসম্মুখে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণের সমর্থন নেবে। এরপর সুস্পষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দেবে। আপাতত এটি হবে তাদের প্রধান কর্মসূচি।

পুন:নির্বাচনের দাবিতে বৃহস্পতিবার কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু কী কর্মসূচি আসছে? দেশের সবার মনে এখন প্রশ্ন- ২০১৪ সালের মতো লাগাতার অবরোধ কিংবা হরতালের মতো কিছু থাকছে নাতো। তেমন কোন কর্মসূচী নেই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা অবশ্য জানিয়েছেন, আপাতত হরতালের মতো কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের পর জোটের একাধিক বৈঠকে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হলেও দলের সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্ত এর বিপক্ষে। কারণ এতে আরও নেতাকর্মী গ্রেফতার হবে। এছাড়া শীর্ষ নেতারা এখনই রাজপথে নামতে চাচ্ছেন না। আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ‘শান্তিপূর্ণ’ ও ‘নিরাপদ’ কর্মসূচি দেয়া হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ৯৩ দিনের লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল। সবার মনে আশংকা ছিল তেমন কিছু হচ্ছে কিনা। কিন্তু আপাতত তেমন কিছুর ইঙ্গিত নেই। ঐক্যফ্রন্টের আপাতত একটাই কর্মসূচি, সেটি হচ্ছে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেয়া। এটি ছাড়া এখনও কোনো কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হয়নি। যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয়, গুলশান (বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়) থেকে জানানো হবে।

নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের এমন ভরাডুবিতে শীর্ষস্থানীয় নেতারা বাকরুদ্ধ। নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেন কিংবা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন আর নেই। তারা এখন এমন শক্তি পাচ্ছে না, যেখান থেকে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করবে। নিজেদের মধ্যে শুধু শলাপরামর্শই করে যাচ্ছেন। কি হতে পারে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ। নিজেদের দলীয় কোন্দল মেটাতেই তারা সচেষ্ট। যেখানে মহাসচিবের পরিবর্তনসহ নানা ইস্যু রয়েছে। দল ত্যাগ করতে পারেন সিনিয়র নেতারাও।