১৬, জানুয়ারী, ২০১৯, বুধবার | | ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

টাঙ্গাইলে ফুটপাতে গরীবের শীত কাপড়ের ক্রেতাশূন্য

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০১৯

টাঙ্গাইলে ফুটপাতে গরীবের শীত কাপড়ের ক্রেতাশূন্য

উত্তম আর্য্য, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে শীতের হাওয়া বইলেই বসেনি শীতের কাপড়ের দোকানে। তাইতো ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে গরীবের শীত কাপড়ের মার্কেট। এতে হতাশ পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায়ীরা। এখানে ‘পা শ – পা শ ’। ‘একশ, দেড়শ টাকা’ একটা নিলে আরেকটা ফ্রি। এভাবেই নারী, পুরুষ, শিশু, তরুণ-তরুণীদেও মনোযোগ বাড়ানোর জন্য তাদের কাছে শীতের কাপড় বিক্রী করছেন টাঙ্গাইল শহরের কোর্ট চত্ত্বর ও জেলার শীতের কাপড় ব্যবসায়ীরা।

প্রচন্ড শীতে দাম কম থাকা স্বত্বেও হকার্স মার্কেটে বিকিকিনি মন্দা। উচ্চ আয়ের মানুষেরা বিভিন্ন নামি-দামি মার্কেট থেকে বিভিন্ন দামি গরম কাপড় কিনতে পারলেও গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা কোর্ট চত্ত্বর, ডিস্ট্রিক্ট ও হকারদের বিক্রী করা গরম কাপড়। কোর্ট চত্ত্বর ও জেলার খোলা মাঠে শীতের কাপড়ের মার্কেটটি মূলত গরীবের শীতের মার্কেট বা ডিষ্ট্রিক্ট প্লাজা হিসেবে পরিচিত।

তীব্র শীতেও এবারে জমছে না গরীবের শীতের মার্কেট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে তাদের এ ব্যবসা।

এখানে বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন কাপড় কিনতে আসেন। কিন্তু বর্তমানে উচ্চ আয়ের লোকজনেরাও এখান থেকে কাপড় কিনছেন। এখানকার ব্যবসায়ীরা শুধু শীতকে সামনে রেখে কাপড় কেনা-বেচা করে থাকেন। বছরের অন্যান্য সময় এখানে তেমন কেনা-বেচা না হলেও শীতকে সামনে রেখে এখানকার ব্যবসা জমজমাট হয়। এতে তারা ভালোই লাভবান হন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন সরকারি পরিত্যক্ত জায়গা ও কোর্ট চত্ত্বর এলাকায় শতাধিক দোকান বসেছে। ক্রেতাদেরও বেশ ভিড়।

এই মার্কেটগুলোতে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্তও শীতের কাপড় পাওয়া যায়। প্রতিদিন প্রতিটি দোকানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিকিকিনি হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

জেলা হকার্স লীগ সভাপতি মোঃ বাদশা মিয়া ও সম্পাদক হায়েত আলী আকন্দ বলেন, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি বেল্টে তাদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এই অতিরিক্ত টাকা দেয়ার পরও তাদের কিনতে হচ্ছে নিমানের বেল্ট। যা বিক্রী করে মূলধন আর যাতায়াতের খরচই উঠানো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। তারপরও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন অল্প টাকায় শীতের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন বাজারে।

পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, গত বছর পুরাতন শীতের কাপড়ের যে বেল্ট চট্টগ্রাম থেকে সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১৬ হাজার টাকায় আনা যেত, এ বছর সেই বেল্ট আনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৪ থেেক ২০ হাজার টাকায়।

গত বছরের তুলনায় দুই থেকে আড়াই হাজার এবং আরো একটু মানসম্মত বেল্টে ৩-৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর বেল্টের দাম বৃদ্ধি পেলেও কাপড়ের মান অন্য বছরের তুলনায় সর্বনিম্নমানের যা ভেঙ্গে বিক্রী করে চালানের টাকা তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

হকার্স লীগ ব্যবসায়ী সমিতির ক্যাশিয়ার হারুন বলেন, আমরা সাধারণত সোয়েটার, ট্র্যাকশুট, বিভিন্ন ধরনের গরম জামা, মোজা, টুপি, বাচ্চাদের কাপড়, প্যান্ট-কোর্ট, চাদর, কম্বল, ট্রাউজারসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের কাপড় বিক্রী করে থাকি।

তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রাম এর আমিন মার্কেট থেকে বেল্ট হিসেবে এইসব শীতের কাপড় নিয়ে আসি। বিভিন্ন ধরনের বেল্ট বিভিন্ন রকমের দাম। বেল্ট ভাঙ্গার পর কাপড়গুলোর একটা গড় মূল্য নির্ধারণ করে আমরা বিক্রী শুরু করি। খরচ বাদে যা থাকে তাতে মোটামুটি ভালোই লাভবান হই।

তিনি আরো বলেন, আমরা এ বছরের তুলনায় প্রত্যেক বছর এ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করি। কিন্তু এবার ক্রেতাশূন্য হওয়ায় আমরা অনেকটা হতাশ। অনেকেই কিস্তিতে টাকা তুলে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসতেছে। অনেকের পক্ষে বিকিকিনি কম হওয়ায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করে সংসার চালানো দুস্কর হয়ে পড়েছে।

মধুপুর থেকে আসা ক্রেতা সামছুল আলম জানান, অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় জেলার এর মার্কেটে কম দামে শীতের কাপড় পাওয়া যায়। তাই প্রতিবছর আমার ও পরিবারের সকলের জন্য এখান থেকেই শীতের কাপড় কিনি।