১৮, জানুয়ারী, ২০১৯, শুক্রবার | | ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

যে কারণে তাঁরা গেল বছরের সেরা নির্মাতা

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০১৯

যে কারণে তাঁরা গেল বছরের সেরা নির্মাতা

২০১৮ শেষ হলো। শুরু হলো ২০১৯। গেল বছরে আপনার দেখা সেরা নাটক কী? সেই নাটকটি কে নির্মাণ করেছেন? এমন প্রশ্ন ছুড়লে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর আসতে বাধ্য। এরমধ্যে একটু খোঁজ নিয়ে, দেখার অভিজ্ঞতায় সেরা পরিচালক বাছাই করা হলো। যাদের নাটক গেল বছর ছিল আলোচনার শীর্ষে।

আশফাক নিপুণ: রাইসুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে কোনো কারণে কথা হচ্ছিল। কথায় কথায় জানালেন, অনেকদিন পর একটা কাজ করে খুব ভালো লাগলো। আর শুধু আমার নয়, দর্শকেরও মনে হয় মন ছুঁয়েছে।’ নাটকের নাম ‘সোনালী ডানার চিল’, ওই যে সুন্দর করে নিপুন ছেলেটা ও নাটকটি নির্মাণ করেছেন। খুব ভালো করেছে। এইতো সেদিন ব্যাংকে গিয়ে এক নারী কর্মী জানালেন, আসাদ ভাই অনেকদিন পর আপনার একটা নাটক দেখে কেঁদে দিলাম। এখানে ওখানে আরও কয়েক জায়গায় নাটকটির প্রশংসা পেলাম। বছরের সেরা তো বলবোই, আমার সেরা কাজের তালিকাতেও টুকে রাখলাম কাজটা।’ প্রশংসা করতে গিয়ে পরিচালকের সঙ্গে মেহজাবিনের নামটাও নিলেন। রাইসুল ইসলাম আসাদের কথার সঙ্গে দ্বিমত করার কোন জায়গা নেই, ‘সোনালী ডানার চিল’ একটি বাস্তবতার উপাখ্যান। যেটা নিজ এবং পরিবারকে ঘিরে স্বপ্ন বুনার গল্প বলে, বলে স্বপ্ন ভংগের গল্প, বলে নীতির গল্প, বলে নীতি বিবর্জিত স্বপ্ন অর্জনের গল্প,বলে একটি কঠিন বাস্তবতার গল্প। এ বছরের সবচেয়ে সাহসী দুটি কাজ ছিল,‘সোনালী ডানার চিল’ ও ‘ফেরার পথ নেই’। ছোট পর্দায় সাহসি এমন কাজের জন্য তিনি প্রশংসাও পেয়েছেন সবশ্রেনীর দর্শকের কাছে। ‘ফেরার পথ নেই’ নাটকটিও ছিল সুনিপুণ নির্মাণশৈলীতে ক্রাইম উপড়ে ফেলার প্রচেষ্টা। তাঁর নির্মাণে অন্যান্য নাটকের মধ্যে লায়লা, তুমি কি আমায় মিস করো (আফরান নিশো বলেছেন তার এ সময়ের করা সেরা রোমান্টিক নাটক), কানামাছি ভোঁ ভোঁ, কে, চলছে চলবে চাকা- অন্যতম। একটা কথা না বললেই নয়, তাঁর নাটকে এলিটা করিমের গানগুলো যোগ করে বাড়তি কিছু।

শাফায়েত মনসুর রানা: হাতে গোনা নাটক বানান। এ বছর বানিয়েছেন মাত্র তিনটি। এতেই শাফায়েত মনসুর রানা এই বছর দর্শকদের কাছে বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত নাম। অনলাইন ঘেটেও সেরা নাটকের তালিকায় তার নাটকগুলো প্রথম সারিতে পাওয়া যায়। বরাবরই ব্যতিক্রম কনটেন্টে নাটক বানাতে অভ্যস্থ শাফায়াত মনসুর রানা। ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপটে ‘সব মিথ্যে সত্যি নয়’, সব মিথ্যে যে সব সময় খারাপ হয় না। সেই সত্য কথাটাই তিনি তুলে ধরেছেন এক গল্পে ছলে। দিলারা জামান- জন কবির- অপর্ণারাও সেরা ছিলেন নাটকটিতে। সামাজিক সচেতনতামূলক ‘আমার নাম মানুষ’ নাটকটিও ছিল প্রশংসিত।

মাবরুর রশিদ বান্নাহ: আফরান নিশোকে নিয়েই এবছর সবচেয়ে বেশি নাটক নির্মাণ করেন বান্নাহ। আফরান নিশোর সঙ্গে কথা হয়েছিল গেল ঈদের পরে। জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো অকপটে করলেন বান্নাহর প্রশংসা। তিনি বলেন,‘এখন ইউটিউবের যুগে নির্মাতারা ভিউয়ের দিকে ছুটে। কিন্তু এ বছর বান্নাহর রীতিমতো পরিবর্তন দেখেছি। যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ওর লক্ষ ছিল ভিন্ন কোন গল্প নিয়ে কাজ করা। সমাজের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যারেক্টার নিয়ে কাজ করা। তথাকথিত কিছু ফর্মূলা থেকে বের হয়ে এবার নাটক বানিয়েছেন। যা বেশ ভালো লেগেছে।’

বান্নাহ গেল কয়েকবছরে রেকর্ডসংখ্যক নাটক নির্মাণ করেন। তার ধারাবাহিকতায় এবছর নির্মাণ করেছেন অনেক নাটক। পুরো বছর তার নাটকের আলোচনা ছিল। এ বছর ‘হোম টিউটর’ ও ‘লালাই’- নাটকগুলো একটু বেশি প্রশংসা পেয়েছে। প্রশংসিত অন্যান্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে, বেড সিন, মানুষ হবো, ব্রা-দার, তনিমা, বেকার, ছেলেরাও কাঁদে, ফুল হাতা হাফ শার্ট, ছাত্র। নির্মাণের পাশাপাশি এ বছর তাকে প্রযোজনাতেও দেখা গেছে।

মিজানুর রহমান আরিয়ান: গত বছর সবচেয়ে আলোচিত নাটক ‘বড় ছেলে’। সেই নাটকের নির্মাতা বলে অনেকে চিনলেও তার প্রশংসা পাওয়া কাজের লম্বা তালিকা রয়েছে। এই বছর তাঁর নির্মাণে ‘বুকের বাঁ পাশে’ নাটকটি পেয়েছে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা। তবে ‘সংসার’ নাটকের প্রশংসাও কম ছিল না। বাকি নাটকগুলোর মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, শোক হউক শক্তি, পাসওয়ার্ড, সুখে দু:খে, ফেসবুক ছাড়ার ৬ টি উপায়- নাটকগুলো ছিল আলোচনায়। অবশ্যই এসব ‘বড় ছেলে’কে ছাড়িয়ে যতে পারেনি। আরিয়ান বরাবরই রোমান্টিক গল্প ও গানের প্রতি মনোযোগী। এ বছরও তার নাটকে প্লে লিস্টে রাখার মতো বেশকিছু গান পাওয়া গেছে।

শিহাব শাহিন: অপূর্ব পুত্রকে নিয়ে আয়াশকে নিয়ে বানানো ‘বিনি সুতোর টান’ ছিল বছরের অন্যতম আলোচিত নাটক। বাবা অপূর্বও ছিলেন নাটকে। বাবা-ছেলের প্রশংসা করেছেন সবশ্রেণীর দর্শক। আর তাদের সুন্দরভাবে এমন গল্পে উপস্থাপনার জন্য পরিচালক সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবিদার। এছাড়া বছরের শেষভাগে এসে ‘অবুঝ দিনের গল্প’ নাটকটিও দর্শকের ভালো লেগেছে বেশ। তিনি বরাবরই রোমান্টিক গল্পের নাটক নির্মাণ করেন। সে হিসেবে ‘এই শহরে কেউ নেই’ নাটকটিতে ছিল ভিন্নতা। এছাড়া শিহাব শাহিন পরিচালিত অন্যান্য নাটকের মধ্যে শেষ পর্যন্ত, আদিত্যের মৌনতা, বাস স্টপ, তুমি যদি বলো, কিছু দুঃখ সবারই থাকে, বন্ধন অন্যতম।

রেদওয়ান রনি: ছোটপর্দায় এখন অনেকটা অনিয়মিত এ পরিচালক। মাঝেমধ্যে ফেরেন, নামের প্রতি সুবিচার করেন। যেমন এ বছরের অন্যতম আলোচিত নাটক ছিল ‘পাতা ঝরার দিন’। নাটকটির গল্প বলার ঢং সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সৈয়দ হাসান ইমামের ছিল দুর্দান্ত অভিনয়। এই বয়সে এসে এমন পরিশ্রমী ক্যারেক্টার করা সত্যিই অবাক করে দেওয়ার মত। ঈশিতাও অভিনয়ে ফিরেছেন কয়েকবছর পরে। তিনিও হাসান ইমামের মেয়ের চরিত্রে ছিলেন দুর্দান্ত। আর তাদের নিয়ে পরিচালক বছরের অন্যতম সেরা নাটকটি নির্মাণ করেছেন। বছরের শেষভাগে এসে ‘ফনিক্স’ নাটকও ছিল প্রশংসিত। এছাড়া এ বছর কমেডি নাটক ‘বিয়ের দাওয়াত রইলো’ নাটকটিও প্রশংসা পায়।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী: প্রায় দশ বছর পর নন্দিত নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী টিভি পর্দায় ফিরেছেন, বানিয়েছেন ‘আয়েশা’, এটিও বছরের অন্যতম আলোচিত নাটক।

চয়নিকা চৌধুরী: তার নাটকের কাহিনী প্রধানত প্রেম। আর এই প্রেমকে তিনি দেখিয়েছেন নানা আঙ্গিকে, নানা মাত্রায়। এ বছর এই নির্মাতা আলোচনায় ছিলেন বেশকিছু নাটক নিয়ে। যার মধ্যে আলোচনায় ছিল, ‘নতুন সকাল’, ‘একদিন খুঁজেছিলো যারে’, ‘দ্বিতীয় যাত্রার আগে’, ‘দুপুর বেলার গল্প ছোট’ অন্যতম।

হিমেল আশরাফ: হিমেল আশরাফের পরিচালনায় ‘শাড়ী’, ‘ওগো বধু সুন্দরী’, ‘সব গল্প রুপকথা নয়’ বেশ আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া অন্যান্য নির্মাতাদের মধ্যে আবরার আতহারের ‘কলি ২.০’, হাসান মোরশেদ ‘সাদাসিধে মানুষের গল্প’, সাগর জাহান ‘নীল গ্রহ’, ইমেল হক ‘দ্য নাইট ওয়াচম্যান’, সাজ্জাদ সুমন ‘কলুর বলদ’, মুস্তফা কামাল রাজ ‘হ্যালো ৯১১ লাভ ইমার্জেন্সী’, জাকারিয়া সৌখিন ‘উগান্ডা মাসুদ’, আজাদ কালাম ‘দানব’, মাহমুদুর রহমান হিমি ‘বাড়ি ফেরা’, সুমন আনোয়ার ‘কমলার বনবাস’, মাহমুদ দিদার ‘ডালিম কুমার, সিনেমা সিনেমা খেলা), তুহিন হোসেনের ‘কতটা পথ পেরুলে’, নুহাশ হুমায়ূন ‘৭০০ টাকা’, ‘পিজ্জা বয়’, হাবীব শাকিলের ‘সিনেমা জীবন’ অন্যতম।