অসুস্থ নারী আইনজীবীকে চর থাপ্পর উপজেলা চেয়ারম্যানের

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় শশুরের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে সবার সম্মুখে উম্মে আসমা আখি নামে এক নারী আইন জীবীকে মারধোর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে গলাচিপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন শাহ্ এর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার দুপুর দুই টায় গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এঘটনা ঘটে। জানাগেছে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন শাহ্ প্রায় দুই শতাধিক লোকের সম্মুখে ওই নারী আইন জীবিকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে বিবস্ত্র করার হুমখী দেয়।

এছাড়াও ওই নারী আইনজীবির শ্বশুরকে মোবাইল ফোনে গালাগালি ও পায়ের রগ কাটা ও পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকী দেয় উপজেলা চেয়ারম্যান। এঘটনায় হামলা ও হুমকীর শিকার হওয়া পরিবারটি আতংক গ্রস্থ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে নিরাপত্তা দাবী করেছেন।

গত ১৪ আগষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুরের ওপড় হামলার সংবাদ প্রকাশ করলে যুগান্তরেের পটুয়াখালী প্রতিনিধিন বিলাস দাসকে জীবন নাশের হুমকী দেয় চেয়ারম্যান শাহিন শাহ্।

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া পরে তার তোপের মুখে সবাই। কথায় কথায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাধারন মানুষকে প্রকাশ্যে চরথাপ্পর লাথি, অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। একটি মহল স্থানীয় সাংসদকে জানালেও কোন সমাধান হয়নি, বরং তার ঔদ্ধত্যপূর্ন আচারনের মাত্রা আরো বেড়েছে।

কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল চৌধুরী জানান, তিনি শাররিক অসুস্থ্যতার কারনে বেশ কিছুদিন নিজ জেলার বাইরে ছিলেন। বুধবার তিনি গলাচিপা বাসায় আসেন।

বৃহস্পতিবার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ্ কল করে তাকে উপজেলা চত্বরে যেতে বলেন। এসময় তিনি শাররিক ভাবে অসুস্থ্য বলে জানিয়ে উপজেলা চত্বরে যেতে আপত্তি করেন।

এতে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ্ তেলে বেগুনে জলে উঠে অকথ্য ভাষায় চেয়ারম্যানকে গালমন্দ করে। এসময় চেয়ারম্যান দুলাল চৌধুরী তার প্রতিবাদ করলে শাহিন শাহ্ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে হাত-পায়ের রগ কাটা এবং ভেঙ্গে দেয়ার হুমখী দেয়। এক পর্যায় ইউপি চেয়ারম্যান ফোনের লাইনটি কেটে দেয়।

এঘটনা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলামকে চৌধুরীকে জানালে তিনি তাকে আইনী সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানায় দুলাল চৌধুরী। পরে ঘটনাক্রমে গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয় ইউপি চেয়ারম্যানের পুত্রবধু নারী আইনজীবী উম্মে আসমা আখি।

নির্যাতনের স্বিকার নারী আইনজীবী উম্মে আসমা আখি বলেন, ঘটনাক্রমে গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌছলে উপজেলা চেরয়াম্যান আমাকে বলে তোর শ্বশুর কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের লতিফ গংদের পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মারছে।

তুই তার জরিমানা দিবি। এসময় তার উত্তরে আখির শ্বশুর ঢাকায় চিকিৎসাধিন ছিল এবং বুধবার রাতে বাসায় এসেছে বলে জানায়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও নারী আইন জীবীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে আখি প্রতিবাদ করে।

এতে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে আখিকে চর-থাপ্পর,কিল-ঘুষি এবং তিনটি লাথি মারেন। এঘটনা দেখে উপজেলা চত্বরে অন্তত দুই শতাধিক লোক জড়ো হয়। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান সংযত না হয়ে আখির উপর আরো চড়াও হয়।

একপর্যায় উপস্থিত লোকের সামনে আখিকে বিবস্ত্র এবং মানহানি করার হুমকী দেয়। আখি আরো বলেন- আমি কয়েক মাস আগে অস্ত্রপাচার করে সন্ত্রান প্রসব করেছি। তাই শাররীক ভাবে আমি এখনো সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারিনি। এজন্য আমি তাকে সংযত হয়ে কথা বলার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি উল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন, যা প্রকাশ যোগ্য নয়।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান- ইউপি চেয়ারম্যান ও তার পরিবারকে সার্বিক নিরাপত্তা দেয়া হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ জানান, মাছ মারা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে আর কিছুই নয়।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর