মাকে বাঁচাতে মেয়ের আকুতি!

অসহায়ত্ব বুঝি একেই বলে!একজন নারীর আশ্রয়স্থ তার স্বামী।সেও ছেড়ে চলে গেছে।একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কোনে ভাবে বেঁচে আছেন।এরই মধ্যে যেন ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’।বিরল রোগে আক্রন্ত হয়েছেন স্বামী হারা ওই নারী।এমন অবস্থায় সমাজের বৃত্তবানদের দ্বারস্থ ওই নারীর মেয়ে।

‘আমার মাকে আপনারা বাঁচান! আমি একপ্রকার এতিমের মতই! আমার বাবা থেকেও নেই। অন্যখানে বিয়ে করে আজ বাবা ১০ বছর ধরে আমাদের কোন খবর রাখে না। আমরা একবেলা খেয়ে না খেয়ে থাকি। তার উপরে আমার মায়ের ভয়ংকর রোগ ধরেছে। অপারেশন ও থেরাপি না দিলে হয়তো আমার মা বাঁচবে না।

আমার মায়ের কোমরসহ পিঠে প্রচন্ড ব্যাথা,পায়ে ও মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা, সারা শরীর ঝনঝন করে সারাক্ষন। আমার মা প্রচন্ড ব্যাথায় সারাদিন চিৎকার করে। আমার মা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। মায়ের কষ্ট আমি কোনোভাবেই সহ্য করতে পারিনা আপনারা দয়া করে আমার মাকে বাঁচান।’ অঝোড়ে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলি বলছিলেন অসুস্থ লুৎফুননেসার মেয়ে জেরিন আক্তার।

লুৎফুননেসার বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দিগদারী গ্রামে। লুৎফুননেসা মেরুদন্ডের জটিল রোগ পি,এল,আই,ডিতে আক্রান্ত। স্বামী ছেড়ে যাবার পর ভিটেমাটি বিক্রি করে রংপুর কুড়িগ্রামের প্রায় হাফ ডজন ডাক্তার বদল করার পর রংপুরের ডাক্তার মাহামুদুনন্নবী ডলার জানিয়েছেন যে, তিনি মেরুদন্ডের খুব জটিল রোগ পি,এল,আই,ডিতে আক্রান্ত। তার অপারেশন ও থেরাপি দ্রুত না দিলে তিনি যখন তখন কঠিন বিপদের মুখে পড়তে পারেন।

সেইসাথে ডাক্তার এটাও জানান অপারেশন ও থেরাপি দিতে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লাগবে। টাকার পরিমান শুনে মুশড়ে পড়ে জেরিন ও তার অসুস্থ মা! এখন বাড়িতে এসে আল্লাহপাকের উপর সব ছেড়ে দিয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে জেরিনের মা। আর মায়ের এই আসহায়ত্ব নিরবে দেখে আর মায়ের সাথে সারাদিন কাঁদে একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া জেরিন।

পড়ালেখায় বেশ ভালো হতভাগা জেরিন। জেএসসিতে গোল্ডেন এ+ ও এসএসসিতে ৪.০৬ পেয়ে পাস করে ভিতরবন্দ স্নাতক মহাবিদ্যালয়ে ইন্টারে ভর্তি হন। কিন্তু মায়ের এই অসুস্থতা ও টাকার অভাবে তারও পড়াশোড়া বন্ধ হবার পথে।

এমতবস্থায় সমাজের হৃদয়বান বৃত্তবানেরা এগিয়ে আসলে দেড় লক্ষ টাকা যোগাড়ও সম্ভব এবং অপারেশন ও থেরাপি সম্ভব।

লুৎফুননেসার পাশে দাড়াতে তার ব্যাক্তিগত হিসাব নম্বর:২৬২-১৫১-১৫১৭০৪ হিসাবের নাম: লুৎফুননেসা, ব্যাংকের নাম: ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, শাখার নাম: কুড়িগ্রাম সদর শাখা, কুড়িগ্রাম।

বার্তবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর