শেরপুরে গরু মোটাতাজা করণে সফল খামারী শামীম

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কি.মি দূরে সুঘাট ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী জয়লা জোয়ান গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম শামীম একজন সফল খামারী। বাবা মো. আজিজুল হক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। পারিবারিক ভাবে আগে থেকেই স্বচ্ছল। বড়ভাই ঢাকাতে ব্যবসায়িক কাজে সেটেল্ড। বাবা মায়ের অনুরোধেই ডিগ্রি পাশ করেও গ্রামেই থেকে যান তিনি এবং সংসারের দায়িত্ব নেন। দ্বায়িত্ব নেওয়ার পরেই ২০১৪ সালের মাঝামাঝি শখের বসে ১০ টি ষাড় গরু নিয়ে শুরু করেন মোটাতাজা করণ প্রকল্প। প্রথম বারেই ৭ মাস গরু গুলো লালন-পালন করে দেখতে পান বড় রকমের লাভের মুখ। সেখান থেকে শুরু হয় তার সফলতার গল্প। উপজেলা প্রানিসম্পদ দপ্তরের কারিগরি সহযোগিতা পেয়ে তিনি এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস অর্জন করে এবং ধীরেধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে গরুর সংখ্যাসহ লাভের অংক। গত ঈদ-উল-আযহার আগে শামীমের মোটাতাজা গরুর সংখ্যা ছিল ৫৫টি। গড়ে সাত মাস গরু গুলো পালনের করে তিনি ঈদে বিক্রি করেছেন ৬০ লাখ টাকা।

জাহাঙ্গীর আলম শামীম জানান, ক্রয়মুল্য এবং খাদ্যসহ অন্যান্য খরচ বাবদ মোট ব্যায় হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ প্রায় ৩ লাখ টাকা সহ মোট ৪৫ লাখ টাকা। লাভ হয়েছে সর্বসাকুল্যে ১৫ লাখ টাকা। আমি ঈদের পরে পুনরায় ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে ৬৫ টি ষাড় গরু ক্রয় করেছি। এখন উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কারিগরি সাপোর্ট পেলে তিনি গরুর সংখ্যা আরো বাড়াতে পারেন এবং নিজের সফলতার পাশাপাশি দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখতে চায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমির হামজা বলেন, পার্শ্ববর্তী উপজেলায় চাকুরি করার সুবাদে প্রায় ২ বছর আগে থেকেই শামীম সাহেবের খামারে কিছুটা পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তার খামার আমি পরিদর্শন করেছি। আমার খুব ভাল লেগেছে। পরিদর্শন কালে তাকে এতটুকু আশ্বস্ত করতে পেরেছি, আমরা উপজেলা প্রানিসম্পদ পরিবার সবসময়ই উনার পাশে থেকে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর