মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের চেষ্টা, দুই মেয়েকে কুপিয়ে জখম

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসময় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রহিমা বেগমকে ব্যাপক মারধর করা হয়। দুই মেয়েকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

হামলার শিকার রহিমা বেগম বলেন, একই এলাকার মৃত আব্দুল হাকিম মিস্ত্রীর ছেলে রফিক ও ফরিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বসতভিটা দখল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

সর্বশেষ ১৪ জুলাই দিন দুপুরে তারা আমাদের বসতবাড়ি থেকে গাছপালা কেটে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমার ছেলে জসিম উদ্দিন কক্সবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ দায়েরের পর থেকে বিবাদীরা নানাভাবে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

এর ধারবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে তারা দেশীয় অস্ত্র, দা, লাঠি, কিরিচ নিয়ে আমার বসতবাড়ি ভাংচুর করে। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তারা আমার মেয়ে পারভীন আক্তার (১৮) ও আয়েশা সিদ্দিকাকে (১৯) কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। আমার তলপেটে কিল, লাথি, ঘুষি মারে। এসময় দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

রহিমা বেগম বলেন, যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে যায়, আমরা বসতভিটা ছেড়ে না দিলে আমাদের হত্যা করবে। বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ সরেজমিনে পরিদর্শন করে। আমি ও আমার মেয়েদের মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আমাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। এ ঘটনায় আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছি।

তিনি বলেন, বসতভিটা দখল করার জন্য তারা আমার ঘরে হামলা চালিয়েছে। আমার দুই মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়েছে। আমার মেয়ে পারভীন আক্তারের হাতে সাতটি সেলাই ও আয়েশা সিদ্দিকার হাতেও দুটি সেলাই করতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।

স্বাধীন বাংলাদেশে একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে এমন অবিচার, অন্যায় কী করে ঘটে!ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত রফিক ও ফরিদুল আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর যদি এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে থাকে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে আমরা অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর