ছাত্রলীগ নেতার কোমরে পুলিশের দড়ি, আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

বিদ্যুৎ বিল বকেয়া মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও সরাইল সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছানা উল্লাহ গিয়াস সেলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তার করে পুলিশ তাকে কোমরে দড়ি বেঁধে থানায় নিয়ে যায়। যে ছবিটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে নানা মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দুপুরের পর থানা কমপ্লেক্স সংলগ্ন সদরের স্থানীয় অন্নদা স্কুল মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেলু সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামের হাজী হারুনুর রশিদ ওরফে এলু মেম্বারের ছেলে।

সরাইল উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’জনেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন।

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু জানান, সেলু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। সে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও সরাইল সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এই ধরনের অপমান করা উচিত হয়নি। বিষয়টি কেউ মেনে নিবে না।

উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. শের আলম মিয়া জানান, সেলু আপাদমস্তক একজন ছাত্রলীগ নেতা। ছাত্রলীগের জন্য সে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। থানায় মামলা থাকতেই পারে। তবে সে (ছাত্রলীগ নেতা সেলু) চোর, ডাকাত বা মাদক ব্যবসায়ী ছিলনা। গ্রেপ্তার হতেই পারে, তাই বলে পুলিশ সেলুর কোমরে দড়ি বেঁধে এমন অপমান করবে, এটা মেনে নেওয়া যায়না।

সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মঞ্জুর আহম্মদ জানান, সেলুর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাসহ তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর আগে পলাতক থাকায় পুলিশ তাকে খুঁজছিল। গ্রেপ্তারের পর বিকেলে সেলুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অপরদিকে সরাইল থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও দারোগা দাবি করেন, সেলুর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা প্রদানসহ পুলিশ অফিসারকে আহত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেলু এলাকার ত্রাস, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও আছে। অনুমান দেড়বছর বা এর কিছু সময় আগে মহাজোট সরকারের তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার গাড়িবহর আটকে সাংসদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এই সেলু।

তখন সাংসদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সরাইল থানার এক দারোগা সেলুকে থামাতে গেলে, সে ওই পুলিশ অফিসারের ওপর মারমুখী ভঙ্গিতে ক্ষিপ্ত হয় ও কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের ইউনিফর্ম ধরে টানাটানির পর তাকে লাঞ্ছিত করে সেলু। তার বিরুদ্ধে সরাইল থানায় এফ আই আর নং ৯/জি,আর- ২৪৯। এফ আই আর নং ৪, জি,আর- ৩৬৮/১৬, এফ আই আর নং ৪, জি, আর- ১২৭/১৮ইং নিয়মিত মামলা আছে। এছাড়াও রয়েছে সি,আর -৩৫৬/১৮ইং মামলা।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, বিজ্ঞ আদালত থেকে ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য পুলিশের ওপর কড়া সতর্ক ও চাপ রয়েছে। সেলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। কোমরে দড়ি বেঁধে ছবি তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। সম্ভবত সেলু সহ অন্য আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময়ে থানা কমপ্লেক্সের ভিতরে কেউ এই ছবি ক্যামেরা বন্দি করেছে। এটি দুঃখজনক ব্যাপার। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো।

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর