ভুল চিকিৎসায় ৩ জমজ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলা সদরে অবস্থিত চাটখিল স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জমজ ৩ শিশু মারা গেছে। অভিযোগ উঠেছে ভুল চিকিৎসার কারণে এমনটা হয়েছে।অন্যদিকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে মুর্ছা যাচ্ছেন, প্রলোপ বকছেন, কিছুই খাচ্ছেন না শিশুদের মা রুমানা আক্তার মুন্নি (২৬)। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহত ৩ জমজ শিশুর নাম আয়েশা, ফাতেমা ও মরিয়ম। উপজেলার ২নং রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রামনারায়ণপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই গ্রামের আমিনমদের বাড়ির প্রবাসী রাশেদের স্ত্রী রুমানা আক্তার মুন্নি।

এ মৃত্যু নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। এই ৩ শিশুর মৃত্যু চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে হয়েছে নাকি ক্যানোলার মাধ্যমে মেয়াদউত্তীর্ণ ইনজেকশন প্রয়োগ অথবা ইনজেকশনের সাথে বিষাক্ত কোন উপাদান দেয়া হয়েছিল কি-না তা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে।

এদিকে জমজ ৩ শিশুর মৃত্যু হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক জনের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করেছে। এ নিয়ে নিহত ৩ শিশুর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। লোকজনের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় তিন জমজ শিশু মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগী পরিবার।

জানা যায়, গত ২৪ জুলাই ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে গৃহবধূ রুমানা আক্তার মুন্নির ৩ জমজ সন্তানের জন্ম হয়। এদের নাম রাখা হয় আয়েশা, ফাতেমা ও মরিয়ম। পরে সুস্থ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে গৃহবধূ মুন্নি।

গত ২৪ আগস্ট শনিবার তাদেরকে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান সন্তানসহ মুন্নিকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এর ২দিন পর গত ২৬ আগস্ট তাদেরকে আবার চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে ডা. মিজানুর রহমান মুন্নি ও তার তিন সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি না করে কেবল চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দেন।

অবশেষে গত ২৮ আগস্ট বুধবার রাতে এ ৩ শিশু অসুস্থ্য হয়ে পড়লে চাটখিল স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৯০০ টাকা চিকিৎসা ফি এবং ৩০০ টাকা ভর্তি ফি নিয়ে হাসপাতালের ২০২ নং রুমে ভর্তি করা হয়।

গৃহবধূ রুমানা আক্তার মুন্নির বোন সালেহা বেগম বলেন, ভর্তির পর মুন্নির ৩ শিশু সন্তান আয়েশা, ফাতেমা ও মরিয়মকে হাসপাতালের তৃতীয় তলার অপারেশন থিয়েটার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডা. মিজানুর রহমানের চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী নার্স প্রথমে তিন শিশুর হাতে ক্যানোলা লাগিয়ে ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন দেয়ার পরপরই ৩ শিশু বিকটভাবে কান্না শুরু করে। এভাবে টানা আড়াই থেকে তিনঘণ্টা কান্নার পর মারা যায় আয়েশা।

তিনি আরো বলেন, এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের নিকট থেকে চার হাজার টাকা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু রোগী মৃত্যুর কোনো সনদ দেয়নি। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় অন্য দুই শিশু ফাতেমা এবং মরিয়মও মারা যায়। এরপর তারা ৩ শিশুকে বাড়িতে এনে বাড়ির পূর্ব পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে। বিষয়টি গোপন থাকলেও এক সাথে ৩ শিশুর কবর এবং তাদের মা গৃহবধূ মুন্নির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

অভিযুক্ত চাটখিল স্কয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাসুদ হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

ডা. মিজানুর রহমান জানান, গৃহবধূ মুন্নির ৩ জমজ শিশুই অপরিণত ও ওজনে কম ছিলো। এদের অবস্থাও খারাপ ছিলো, কোথাও পাঠানোর সুযোগ ছিলো না। এরা ডায়রিয়া, সেপটিসেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলো।

চাটখিল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ভুল চিকিৎসায় ৩ জমজ শিশু মৃত্যুর ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর