২৩, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০

পরকীয়ায় মেতে ওঠেন স্ত্রী, স্বামী ঘটালেন অন্য ঘটনা

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০১৮

পরকীয়ায় মেতে ওঠেন স্ত্রী, স্বামী ঘটালেন অন্য ঘটনা

দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের পর প্রায় পাঁচ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায় ও সুখবিন্দর সিং। তবে বেশকিছু দিন আগে রাজশ্রী এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এরপর রাজশ্রীর ঘটনা জানতে পেরে তাকে গুলি করে হত্যা করেছেন সুখবিন্দর সিং। হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর এমনটিই জানিয়েছেন সুখবিন্দর।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীকে নিয়ে পলতায় স্কুটি কিনতে গিয়েছিলেন সুখবিন্দর। বাড়ি ফেরার পথে বেঙ্গল এনামেল বাসস্ট্যান্ডের কাছে গুলির শব্দে জড়ো হয়ে যান পথচারীরা। তারা দেখেন, রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে রাজশ্রী।

তার স্বামী সুখবিন্দর দাবি করেন, বাড়ি ফেরার পথে তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। স্ত্রীকে খুনের পর রিভলবারটি ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। রাজশ্রী স্বামী সুখবিন্দরকে আটক করে পুলিশ। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুখবিন্দর প্রথমে জানায়, দুষ্কৃতীরা তার স্ত্রীকে খুন করেছে। খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও ফেলে গিয়েছেন তারা। বারাকপুরের বাসিন্দা হয়েও কেন পলতায় স্কুটি কিনতে গেলেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন তদন্তকারীরা। কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাবে মেলে হাজারও অসঙ্গতি। টানা পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়েন সুখবিন্দর।

পুলিশকে সে জানায়, স্কুটি কিনতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বের হন তিনি। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর রাত পৌনে ১১টা নাগাদ বাড়ি ফেরার পথে এনামেল বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাজশ্রী মোবাইলে কথা বলতে শুরু করেন। তখনই পিছন দিক থেকে স্ত্রীর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যান তিনি।

খুনের কারণ হিসাবে পুলিশকে তিনি জানান, রাজশ্রী দীর্ঘদিন ধরেই এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও সেই সম্পর্ক ছাড়তে পারেননি রাজশ্রী। তাই স্ত্রীকে খুন করেছেন তিনি। খুনের কথা স্বীকারের পরই পুলিশ সুখবিন্দরকে গ্রেফতার করে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, রাজশ্রী কোনো বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন না। স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তি নিজে হাতাতেই রাজর্ষিকে খুন করেছে সুখবিন্দর।