২৩, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০

কোথায় যাবে কিশোরীরা?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

কোথায় যাবে কিশোরীরা?

বখাটেদের বেপরোয়ায় কিশোরীদের জন্য দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে এ জনপদ। অফিস, রাস্তা কিংবা বাড়ি। কোথাও নিরাপদে নেই তারা। বেড়ে যাওয়া ইভটিজিংয়ে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা। অল্প বয়সে এতো বড় ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে অনেকই আত্মহত্যার মতো জীবন নাশের পথ বেছে নিচ্ছে। এমতাবস্থায় কিশোরীরা কোথায় যাবে- এমন প্রশ্ন জনমনে।

সম্প্রতি গুলশানে বাসার ভিতরে চল্লিশোর্ধ মধ্যবয়সীর কর্তৃক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় কিশোরীদের নিরাপত্তা এ বিষয়টি আবারো সামনে এসেছে।

সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা সমাজে এখনো থাকায় কিশোরীরা দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। অন্যদেশের অপসংস্কৃতি, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ও বেকারত্বই বাড়াচ্ছে ইভটিজিং ও বখাটেপনা। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না থাকায় অপরাধ না কমে বেড়েই চলছে। যাতে করে আমরা মনুষত্ব্যহীন হয়ে পড়েছি। শিক্ষক, মালিক বা আশ্রয়দাতা, কারও কাছেই নিরাপদ নয় তারা।

গত বৃহস্পতিবারের ঘটনা। শুলশানের একটি ফ্লাটে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সাবলেট থাকতেন দিপলাস নামের এক ব্যক্তি। বয়স চল্লিশোর্ধ। যাদের বাসায় সাবলেট থাকতেন তিনি, তাদের বোনের মেয়েও থাকতেন একই বাসায়। কিশোরীর খালা-খালু বাসায় না থাকার সুযোগে তাদের ঘরে ঢুকে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে চল্লিশোর্ধ পুরুষটি। পরে খালা-খালু এলে বিষয়টি তাদের খুলে বললে কিশোরীর খালা-খালু গুলশান থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ গ্রেফতার করে মধ্য বয়সের সেই ধর্ষককে।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নবম শ্রেণির এক কিশোরী চাচার হাত ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু হঠাৎই তাদের পথরোধ করে স্থানীয় প্রভাবশালী বখাটেরা। হেলাল তালুকদার নামে এক বখাটের নেতৃত্বে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ছাত্রীটির পরিবার থেকে পাঁচ হাজার টাকা মুক্তি পণ দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি কিশোরীটির।

পরে গভীর রাতে ছাত্রীটিকে দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণের চেষ্টা চালালে খবর পেয়ে উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন দুপুরে ওই ছাত্রীকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে কিশোরীটি।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তেন সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের মতো ছাত্রীটি প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হন। ঘটনাটি ছাত্রীটি তার অভিভাবকের কাছে প্রকাশ করলে তার বাবা-মা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক গোলাম হোসেনকে (৪০) আটক করে পুলিশ দেয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় তার মোটরবাইকটিকে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়ও ঘটে এমন এক ঘটনা। মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। এরই জেরে পরদিন সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও ক্লাস বর্জন করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষককে গ্রেফতারের মাধ্যমে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর চেয়েও ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। পৌরসভা এলাকার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে জহিরুল ইসলাম নামে ৩৫ বছরের এক পুরুষ। ছাত্রীটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় পরিবার টের পেয়ে আসামিকে পুলিশে দেয়।

থানা সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী ছাত্রীটির পরিবার অত্যন্ত গরিব। আসামির আশ্রয়ে তার জমিতে অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করতো বলে সেই সুযোগটি নেয় ধর্ষক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কর্মকর্তা একেএম ওয়ালিউল ইসলাম লোনা বলেন, ‘বর্তমানে প্রযুক্তির সুফল পাশাপাশি কুফলের কারণে বেড়েছে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। ইভটিজিং এর অন্যতম। এটা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত রাখতে হবে। পারিবারিক শাসন থাকতে হবে। পরিবার থেকে নৈতিকতার শিক্ষাই বড় শিক্ষা।’