খালেদার মনোনয়ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ইসি

রাজনীতি

চার কমিশনার খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের পক্ষে এবং একজন কমিশনার বৈধতার পক্ষে রায় দেন। ৪-১ ভোটের রায়ে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের আপিল শুনানিতে নামঞ্জুর করা হয়েছে। এরপর আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা উল্লাস প্রকাশ করলেও উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিএনপির আইনজীবীরা।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণার পর বিএনপি প্রধানের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান।

খালেদার পক্ষে ব্রিফ করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, শুনানি শেষে কমিশনার মাহবুব তালুকদার বিএনপি নেত্রীর তিনটি আসনেই তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। এরপর, কিভাবে দ্বিতীয়বার রায় দেওয়া হয়? একবার রায় ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর, দ্বিতীয়বার রায় ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই। গত তিনদিন আপনারা দেখেছেন, দ্বিতীয় রায় হয়েছে? নির্বাচন কমিশনের এখানে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। কমিশনের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার অভিযোগ ছিল, খালেদা জিয়া নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন। কিন্তু তিনি তো কারাগারে। কারাগারে থেকে তো অপরাধ করা যায় না।

মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন, মাহবুব তালুকদার সাহেব যে জাজমেন্ট দিয়েছেন তা লিগ্যাল জাজমেন্ট, ফেয়ার জাজমেন্ট। আমরা আইনগত এক্সামিন করে উচ্চ আদালতে যাওয়া যায় কি-না, এ বিষয়ে কনভিন্স হলে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা বিশ্বাস করি উচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ করবে।

অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কোনোদিন নির্বাচনে হারেন নাই। প্রতিটি নির্বাচনে তিনি একাধিক আসনে জয় লাভ করেছেন। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবার তাকে কারাগারে আটক রেখেছে। তারপরও তিনটি নির্বাচনী এলাকায় তার মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস ছিলো সরকার নিরপেক্ষভাবে এই মনোনয়নপত্রগুলো গ্রহণ করবে। আগেই আপনাদের বলা হয়েছিলো- রিটার্নিং কর্মকর্তা যে রায় দিয়েছিলেন তা আইন মোতাবেক হয় নাই। তাই আমরা কমিশনে আবেদন করেছি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম আপিল আবেদন শোনার জন্যে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তিনজন কমিশনার খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এবং একজন বৈধ বলেন। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়। এখানে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই।