১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

ঢাকা কলেজের এক মহীয়সী জননী

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৮

ঢাকা কলেজের এক মহীয়সী জননী

ঐতিহাসিক ঢাকা কলেজর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনেক মহীয়সী ব্যক্তি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে বিদায় নিয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই ঢাকা কলেজের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে গেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিলেন মাতৃতুল্য ড. আয়েশা বেগম।

ঢাকা কলেজ আর্কাইভ থেকে জানা যায়,আজ ঢাকা কলেজ যে পর্যায়ে রয়েছে তার অন্যতম রুপকার ড. আয়েশা বেগম। ঢাকা কলেজের কথা ভাবলেই চোখে ভেসে উঠে ঢাকা কলেজের সুবিশাল সুদৃশ্য গেইট। ঢাকা কলেজের সেই সুন্দর গেইট টি তারই পরিকল্পনায় করা। তার অন্যতম উন্নয়ন কাজ গুলোর মধ্যে শেখ কামাল ছাত্রাবাস, কলেজের বিশাল অডিটোরিয়াম, টিচার্স লাউঞ্জ, সান্ধকালীন লাইব্রেরি, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মান সহ আরও বহু কাজ করে গিয়েছেন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য। তিনি তাঁর আদর্শ এবং নীতির প্রতি অটল থেকে ৪ বছর এ কলেজকে যা দিয়েছেন তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়ত কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। পরীক্ষার সময় হলে গিয়ে গিয়ে তিনি ছাত্রদের খোঁজ নিতেন, শুধু তাই নয়, তাদের জন্য দুধ/ডিম খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতেন। ২০১২ সালে যখন ঢাকা কলেজের পুকুর থেকে মাছ তোলা হয় তার পুরোটায় তিনি বন্টন করে দেন কলেজের ছাত্রাবাস গুলোতে ছাত্রদের খাওয়ার জন্যে। কলেজের যেকোনো ছোট অনুষ্ঠানেও তিনি হাজির করাতেন সরকারের বড় মন্ত্রিদের।

শহীদ মিনারে উন্মুক্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বসন্ত উৎসব, পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতেন তিনি মহা আনন্দে। প্রতিবছর আয়োজিত হতো শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ। মহাসমারোহে তিনবার জাঁকজমকপূর্ণ ছাত্র-পূনর্মিলনী করেছিলেন তিনি। প্রতিবছর কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী(জন্মদিন) বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে পালন করা হতো তার সময়ে। গবেষণামূলক ‘Journal of Dhaka College’, কলেজের সর্বশেষ বার্ষিকী ‘চারুভাষ’ ও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন মায়ের সমান এবং ছাত্ররাই ছিলেন তাঁর জন্য সব। শুধু কলেজের তৎকালীন শিক্ষক/ছাত্র কিংবা কর্মচারীগণ নন, আজীবন তিনি রয়ে যাবেন প্রতিটি ডিসিয়ানের হৃদয়ে। তাঁর ব্যক্তিত্ব কিংবা কৃতিত্বের কথা বর্ণনা করে কখনও শেষ করা যাবে না। ২০১৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নেন তিনি। বর্তমানে শিক্ষা, গবেষণা ও কল্যাণ কেন্দ্রের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং প্রসারের লক্ষ্যে তিনি শিক্ষা প্রকাশ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন।