১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

বিনোদনের জন্য একটি যুগান্তকারী সম্ভাবনা ওয়েব কনটেন্ট

আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০১৮

বিনোদনের জন্য একটি যুগান্তকারী সম্ভাবনা ওয়েব কনটেন্ট

আগামী দিনে ডিজিটাল প্লাটফর্ম হতে যাচ্ছে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। এখন বিশ্বের সবাই অনলাইনে ওয়েব কনটেন্ট দেখে অভ্যস্ত। এই মাধ্যমের জোরালো যাত্রা শুরু হয়েছে বাংলাদেশেও। দেশীয় প্রযোজনায় এই সময়ে তৈরি হচ্ছে নানা রুচির ও চাহিদার ওয়েব কনটেন্ট। যদিও ভালো গল্পের ও নির্মাণের মানসম্পন্ন ওয়েব কনটেন্টের অভাব রয়েছে। তবে এই ডিজিটাল প্লাটফর্ম নিয়ে দারুণ আশাবাদী নির্মাতামহল। কোন পথে এগুচ্ছে ওয়েব কনটেন্ট?

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

আমাদের কাজ হচ্ছে গল্প বলা। সেটা দেখানোর মাধ্যম হতে পারে সিনেমা হল, টেলিভিশন বা মুঠোফোন। ফিল্মমেকার সব সময় প্লান করেন, তার গল্পটা কোথায় দেখালে ভালো দর্শক রেসপন্স পাবেন। এখন তো মানুষ প্রচুর সময় ব্যয় করে ডিজিটাল প্লাটফর্মে ভিডিও কনটেন্ট দেখে। এটা তো বিনোদনের জন্য একটি পজেটিভ সাইন। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে নতুন নির্মাতাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। নতুন দর্শক তৈরি হচ্ছে। দর্শক চাহিদা, রুচি ও সময়ের দাবি মেনেই নতুন-পুরাতন নির্মাতা এখন ভিন্ন ধাঁচের বিগ বাজেটের ওয়েব কনটেন্ট নির্মাণ করছে। কারণ, এই মাধ্যম অমিত সম্ভাবনার।

অমিতাভ রেজা

এটি এখন দুর্দান্ত দিকে যাচ্ছে এবং সামনেও যাবে। এই মাধ্যম আমাদের ভবিষ্যৎ। এখন তো কনটেন্ট নির্মাণে ভালো বাজেটও পাওয়া যাচ্ছে। এটি সময়ের দাবি। তবে, ওয়েব কনটেন্টে দর্শক ধরে রাখতে চাইলে অবশ্যই নির্মাণ ও গল্প ভালো হতে হবে। আর গ্রামের মানুষ তো এখন ফোনেই সব কিছু দেখে থাকেন। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসেই দর্শক খুঁজে খুঁজে বিনোদনের জন্য নানা কনটেন্ট দেখে থাকেন।

গিয়াসউদ্দিন সেলিম

সময়ের সঙ্গে থাকতে চাইলে ডিজিটাল প্লাটফর্মের কোনো বিকল্প নেই। কাজের একটা স্বাধীনতা থাকে। কিছুদিন আগে পরীমণিকে নিয়ে ‘প্রীতি’ ওয়েব সিরিজ করেছি। এই মাধ্যমে এবারই প্রথম কাজ করেছি। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন কাজ করার সর্বোত্তম মাধ্যম! নির্মাতা হিসেবে যদি ভালো বাজেট পাই তাহলে যে কোনো মাধ্যমেই করা যায়। আমাদের আগামী দিন তো ওয়েব ফিল্ম আর ওয়েব সিরিজেরই দিন।

সৈকত নাসির

আমাদের দেশে এই ডিজিটাল মাধ্যমে তেমন করে এখনো বড় পরিসরে কাজ চালু হয়নি। তবে এই মাধ্যমে কাজের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা অনেক। এই মাধ্যমে অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ কাজ করা যায়। আগামী দিন তো ডিজিটাল প্লাটফর্মের দিন। যদিও এই মাধ্যমে কাজের সম্ভাবনা নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। কারণ, এটির এখনো কোনো সেন্সরশিপ নেই। তাই দর্শক ধরে রাখতে হলে ভালো গল্প ও ভালো নির্মাণে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।

অনন্য মামুন

আমাদের সামনের ভবিষ্যৎ ‘ভিডিও অন ডিমান্ড’ প্লাটফর্ম নেটফ্লিক্স। দেশব্যাপী বৈচিত্র্যপূর্ণ সব কনটেন্ট মুক্তি পাচ্ছে এই নেটফ্লিক্সে। থিয়েটার হল তো দিনকে দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে বিকল্প হিসেবে এই মাধ্যম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ভবিষ্যৎ হচ্ছে ভিডিও অন ডিমান্ড। আসলে প্রযুক্তি যেদিকে যাবে, আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। আমি বলব, এই মাধ্যম বিনোদনের জন্য একটি যুগান্তকারী সম্ভাবনার।

হিমেল আশরাফ

এই সময়ে যেসব ওয়েব কনটেন্ট নির্মিত হচ্ছে সেগুলো বলা যায় মানুষের রুচি ও চাহিদার সঙ্গে তেমন করে খাপ খাওয়াতে পারছে না। কিন্তু বাইরের বিশ্বে তাকালে দেখবেন যে, তাদের নির্মিত ওয়েব কনটেন্টগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী। এই মাধ্যমে যেকোনো মানুষ যেকোনো জায়গায় বসে সহজেই মুঠোফোন ঘেঁটে ভিন্ন স্বাদের কনটেন্ট দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী দিনের সম্ভাবনা ডিজিটাল প্লাটফর্ম। এসব ভেবেই আমি পরীমণিকে নিয়ে ওয়েব সিরিজ ‘শেষের কবিতা’ নির্মাণ করছি।

মাবরুর রশীদ বান্নাহ

এটি অনেক বেশি পজেটিভ, সম্ভাবনার। সবাই এখন ঝুঁকছে এই মাধ্যমের দিকে। এখন তো নুসরাত ইমরোজ তিশা, অপূর্ব, নিশো, পরী, পপি, এ বি এম সুমন, তানজিন তিশা, সাফা, টয়া, তৌসিফ, সাজ্জাদসহ অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই এই প্লাটফর্মে কাজ করছেন। যদি অশ্লীলতার জায়গা বাদ দেই, তাহলে এটি হতে পারে ভেরি গুড প্লাটফর্ম। তবে আমি সবসময় এই মাধ্যমকে স্বাগত জানিয়ে আসছি। সিনিয়র যারা নির্মাণে আছেন, তারা অনেক বিচক্ষণ। তারা মার্কেটে এলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে।