১৯, অক্টোবর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলের মাশুল দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলের মাশুল দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার ফল বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় প্রকাশ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতর থেকে দুপুর ২টা ১৩ মিনিটে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীরা মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে nuH4Roll No লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়ে উক্ত ফল জানতে পারবে।

কিন্তু পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এ পদ্ধতিতে ফল জানা যাচ্ছে না। প্রতিবার ২ টাকা ৪৪ পয়সা করে কেটে নিয়ে ফিরতি মেসেজে জানানো হচ্ছে ‘দুঃখিত আপনার রোল নম্বর মিলছে না। একই পদ্ধতিতে আবার চেষ্টা করুন।’ পরপর এই পদ্ধতিতে একাধিকবার চেষ্টা করেও অনেকে ফল জানতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন।

ই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.nu.ac.bd) থেকে ফল জানা যাবে। যাচাই করে দেখা গেছে এই ওয়েবসাইট ফল জানার জন্য নয়। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, অনলাইনে ফল জানতে হলে ঢুকতে হবে http://www.nu.ac.bd/results এই ওয়েবসাইটে।

ওই বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩০টি অনার্স বিষয়ে ৫৪৯টি কলেজের ১ লাখ ৩৩ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছেন ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ ১ লাখ ১১ হাজার ১৪৯ জন পাশ করেছেন।

হিসাব করে দেখা যায়, পাস করা শিক্ষার্থীরা যদি একবারও ফল জানতে ওই পদ্ধতিতে মেসেজ পাঠায় তাহলে খরচ হবে ২ লাখ ৭১ হাজার ২০৩ টাকা। একাধিকবারও অনেকে চেষ্টা করেন ফল জানার। তখন টাকার পরিমাণটাও বাড়তে থাকে।

আইটি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সকল শিক্ষাবোর্ড ও চাকরির পরীক্ষাসহ বহু ধরণের ফি সরকারি মুঠোফোন অপারেটর টেলিটক ও অন্য নম্বরের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন বিভিন্ন অপারেটর থেকে মেসেজ পাঠায় তখন সাথে সাথে নির্ধারিত ফি কেটে নেওয়া হয়। ওই টাকার একটি অংশ যেমন টেলিটক পায় তেমনি একটি ক্ষুদ্র অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়া কথা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় মেসেজের কমিশন পায় কি-না বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম।

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি তখন জানতে চান ফল জানতে ঠিক পদ্ধতিতে মেসেজ পাঠানো হয়েছে কি-না? তাকে তখন পদ্ধতি বললে তা সঠিক আছে জানিয়ে বলেন, ‘দেখছি বিষয়টি কন্ট্রোলারের সঙ্গে কথা বলে।’

এর আগে গত ৩১ মে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই রকম অভিযোগ পেয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলে শিক্ষার্থীদের গচ্চা যাচ্ছে বিপুল অর্থ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যোগফল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলের জন্য শিক্ষার্থীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্চা যাওয়া প্রসঙ্গে মো. ফয়জুল করিম তখনও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘেঁটে দেখা গেছে, “যেকোন ফল প্রকাশ বা ভর্তির ফরম পূরণসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ওয়বেসাইট স্লো থাকে। তখন বাধ্য হয়েই ১৬২২২ নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে ফল জানতে হয়। আর সেখানে যদি ভুল বার্তা থাকে তাহলে ধরে নেওয়া যায় কর্তৃপক্ষ ভুল নয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।”

যেকোন ফল প্রকাশ হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের গতি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে মো. ফয়জুল করিম বলেছিলেন, কত করব বলেন? ঠিকাদারদের কাছ থেকে সার্ভার কিনি আমরা। টেন্ডারের মাধ্যমে কিনতে হয়। দেখা গেল, তাদের বলি একটা, করে আরেকটা।

বিশ্ববিদ্যালয় কারিগরি বিষয় না বুঝায় ঠিকাদাররা ঠকাচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি সম্মতি জানিয়ে বলেছিলেন, “খরচ হচ্ছে কিন্তু সার্ভিস পাচ্ছি না। সরাসরি কিছু কেনার সুযোগ আমাদের নেই। সব ই-টেন্ডারে কিনতে হয়। সরাসরি কেনার সুযোগ থাকলে দেখে কিনতে পারতাম। ই-টেন্ডারে কারা বিক্রয় করছে তাও আমরা জানিনা।”