২০, নভেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মনোনয়নপত্র নিলেন জয়নাল হাজারীও

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৮

মনোনয়নপত্র নিলেন জয়নাল হাজারীও

ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনে নৌকার প্রার্থী কে হচ্ছেন- তা নিয়ে হিসাব-নিকাষ আরও জটিল হয়ে পড়ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত এখানে এবার তার নির্বাচন করা এখনও অনিশ্চিত। তবে আসনটি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ব্যাপক দৌড়ঝাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগেরবার জোট শরিক জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলেও এবার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তিন প্রার্থী এরই মধ্যে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। সবশেষ শনিবার মনোনয়নপত্র কিনেছেন ফেনী সদর আসনের সাবেক সাংসদ আলোচিত নেতা জয়নাল আবদীন হাজারী। তার আগে ফরম তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলউদ্দিন চৌধুরী নাসিম ও আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক উপকমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল হারুন রাসেল। তিনজনই প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।

ফেনী-১ আসনে নৌকার প্রার্থী নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কারণ, নেতাকর্মীরা চাইছেন দল ও কর্মীবান্ধব পরীক্ষিত কোনো নেতা মনোনয়ন পান। আগেরবার শিরীন আখতার এমপি হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে পারেননি তিনি। আওয়ামী লীগের ব্যানারে সংসদীয় এলাকায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হলেও তা প্রচার হয়নি। এবার এখানে পরিবর্তন চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এদিকে, মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়ে কেউই হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত না পেলেও শুক্রবার নিজেকে একক প্রার্থী দাবি করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার (এপিএস) আলাউদ্দিন নাসিম। এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার তপন, ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ও ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলীম, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন প্রমুখ। নাসিম এখনও আশাবাদী শেখ হাসিনা তাকেই ফেনী-১ আসন থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন।

তবে শনিবার জয়নাল হাজারী ও অ্যাডভোকেট রাসেল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় আলাউদ্দিন নাসিমের একক প্রার্থিতার দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আসলেই কে পাচ্ছেন মনোনয়ন? চলছে জল্পনা-কল্পনা। অন্যদিকে, জোটের হিসাব যদি হয় তাহলে শিরীন আখতারই এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে জোট ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ধারণা। ফলে বিষয়টি জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে।

জয়নাল হাজারীর জানান, ফেনীর ১, ২ ও ৩ আসন থেকে তিনটি মনোনয়ন ফরম তুলেছেন তিনি। জননেত্রী শেখ হাসিনা এর মধ্যে ফেনী-১ আসনটি তাকে দিতে পারেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি অভিযোগ করেন, আলাউদ্দিন নাসিম ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টিকারী হিসেবে পরিচিত। তিনি মনোনয়ন পেলে ফেনী আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, যদি ১৪ দলীয় জোটকে এ আসনে নমিনেশন দেওয়া হয়, তাহলে তার কিছুই করার নেই।

জয়নাল হাজারীর মন্তব্য সম্পর্কে আলাউদ্দিন নাসিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জয়নাল হাজারী দলের ত্যাগী ব্যক্তি। তিনি যদি কিছু বলেও থাকেন, তা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।

পর মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট রাসেল জানান, অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিতে পারেন। সে আশায় তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

শিরীন আখতার জানান, জাসদ থেকে ফেনী-১ আসনের জন্য তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি আশাবাদী জোট যেহেতু ভাঙেনি, তাই তিনিই এ আসন থেকে জোটের হয়ে মনোনয়ন পাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ও তার দলের শীর্ষস্থানীয়দের কথা হয়েছে জোটের হয়ে এ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার। তিনি সে আশায় রয়েছেন।

ফেনী-১ আসন বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার এ আসন থেকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। একবার খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া ভোটে এ আসনে উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তার ভাই প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দার। তবে এবার যদি খালেদা জিয়া প্রার্থী হতে না পারেন, তাহলে বিএনপি থেকে কে হবেন, তাও তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে একটি সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহম্মদ, প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দার অথবা ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর আহম্মদ মজুমদার নমিনেশন চাইতে পারেন।