২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দোকান পাট বন্ধ : চলছে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের কর্মবিরতি

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৮

টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দোকান পাট বন্ধ : চলছে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের কর্মবিরতি

জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, কক্সবাজার : টেকনাফ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে দোকানপাট বন্ধ রেখেছে শনিবার সকাল থেকে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা কর্মবিরতিও পালন করছে। পালন করছে খাদ্যসামগ্রী বর্জণ কর্মসূচী। দোকান পাট বন্ধ ও কর্মবিরতি গতকাল শনিবার থেকে শুরু করলেও খাদ্য সামগ্রী বর্জন শুরু করেছে ১ নভেম্বর থেকে।

রোহিঙ্গারা নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সাথে পুরাতন রোহিঙ্গাদের মিলিয়ে একি ধরনের স্মার্টকার্ড দেওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসচী পালন করছে বলে জানান।

গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সকল দোকান পাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় বিভিন্ন এনজিও সংস্থাতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কর্মরর্ত রোহিঙ্গাদের কর্মবিরতি পালন করেছে। এ সময় পুরতন রোহিঙ্গারা জানান, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা পুরাতন নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্ধ কৃত ফুড কার্ড ’র বদলে নতুন ভাবে এ্যাস্টিষ্ট্যান্স কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এতে পুরাতন রোহিঙ্গা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। কারণ ইতিমধ্যে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের জন্য এ ধরনের স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়। এ ফলে নতুন আর পুরাতনকে সমান করা দেখা হচ্ছে। এখানে পুরাতন রোহিঙ্গারা ফুড কার্ডেও মাধ্যমে জন প্রতি মাসিক ৭ শতাধিক টাকার খাদ্য সামগ্রী কিনতে পারে। অন্য দিকে এ্যাসিষ্ট্যেন্স কার্ড দিয়ে সম পরিমান মালামাল ক্রয় করতে পারে নতুন রোহিঙ্গারা। এর বাইরে নতুন রোহিঙ্গারা নন ফুড আইটেম বরাদ্ধ পায় যা পুরাতন রোহিঙ্গারা পায় না।

টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো: জুবায়ের জানান, নতুন রোহিঙ্গাদেরকে দেওয়্া হুবুহু কার্ড পুরাতনদের মাঝে দেওয়ার জন্য এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত ১ নভেম্বর থেকে ফুড কার্ড ব্যবহার করে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে পুরাতন রোহিঙ্গারা। নয়াপাড়া ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতি আব্দুল নবী জানান, শরনার্থী হিসেবে আমরা নিবন্ধিত কিন্তু নতুন আসা রোহিঙ্গারা এখনো সেই মযার্দা পায়নি। তাই তাদের সাথে আমাদের একই কাতারে নামানো কোন মতেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরো জানান, নয়া পাড়া ক্যাম্পে অনির্দিষ্ট সময় ধরে দোকান পাট বন্ধ থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের কর্মবিরতিও বিলম্বিত হতে পারে। এদিকে টাই নামক এনজিও সংস্থার সহকারী কর্মসুচী কর্মকর্তা ইমরান জুয়েল জানান, তাদের অনেক স্বেচ্ছাসেবক কাজে যোগ না দেওয়ায় ক্যাম্পে বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নজরদারী বাড়ানো দরকার।

এ বিষয়ে টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পে কর্মরর্ত পুলিশ ইনচার্জ আবু রেদোয়ান জানান, ক্যাম্পের দোকানপাট সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার ত্রান ও শরনার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার ও টেকনাফ নয়া পাড়া ক্যাম্প ইনচার্জেও মোবাইল সংযোগ না পাওয়ায় বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।