২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাইব : মাহমুদউল্লাহ

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৮

আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাইব : মাহমুদউল্লাহ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল রোববার দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবে টাইগাররা। প্রথম টেস্টে যেসব ভুল করেছে সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢাকা টেস্টে সেরকম ভুল আর করতে চাচ্ছে না মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। তারা চায় ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে। ঢাকা টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে আজ শনিবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বার্তাবাজার পাঠকদের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হল :

প্রশ্ন : এভাবে টেস্ট খেলার মানে হয়, এই বার্তা ড্রেসিং রুমে কিভাবে দিয়েছেন এবং কিভাবে রেসপন্স করেছে খেলোয়াড়রা?
মাহমুদউল্লাহ : সিলেটের ম্যাচের পর আমরা সব প্লেয়াররাই একত্রে বসেছিলাম। আমরা সেই ম্যাচে কি ইতিবাচক ব্যাপার ছিল, কি খারাপ করেছি যেগুলো আমরা পরের ম্যাচে করতে পারব না; এই জিনিসগুলো পয়েন্ট আউট করা করেছি। কিছু জায়গায় যদি শক্ত থাকতে পারি তাহলে আমরা ভাল পারফর্মেন্স করতে পারব। কারণ আমাদের আসল চিন্তার জায়গা ব্যাটিং। এই জায়গায় আমরা অন্য ফরম্যাটে যত ভাল করতে পারছি, টেস্ট ক্রিকেটে ততো ভাল করতে পারছি না। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা। আবার আমরা যদি খুব বেশি চিন্তা করি তাহলে চাপটা আমাদের উপরেই পড়বে। আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাইব। আমরা যদি ঐ জিনিসটা করতে পারি, তাহলে আমাদের ভাল করার সুযোগ থাকবে।

প্রশ্ন : মিরপুরের উইকেট কেমন দেখেছেন?
মাহমুদউল্লাহ : আমার সাথে সবাই একমত হবেন যে, মিরপুরের উইকেট সবসময়ই একটু আনপ্রেডিক্টেবল থাকে। আপনি যেটা প্রত্যাশা করবেন, সেটা না হলে আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে। আমরা এই ম্যাচে যাচ্ছি মাথা শুন্য করে। পিচ কন্ডিশন যেমন হবে সেই অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করব। আগেই বলেছি কিছু কিছু জিনিস আমরা আগেই ঠিক করেছি, আমরা সেগুলো করব না। একই সাথে আমাদের শটসগুলোও, যার যার যেই স্ট্রং জোনে শট থাকে, সেগুলো সেনসবলি যদি আমরা খেলতে পারি, তাহলে পারফর্মেন্স দেখাতে পারব। এই জিনিসগুলোই আমাদের মাথায় কাজ করছে। আমি শেষ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, এভাবে টেস্ট খেলার কোন মানে হয়না। এক ধরনের হতাশা কাজ করে, কারণ প্রত্যাশা থাকে আপনি ম্যাচ জিতবেন ঘরের মাঠের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে, জিম্বাবুয়ের সাথে। সবারই এমন প্রত্যাশা থাকে, ব্যক্তিগত প্রত্যাশাও থাকে। যদি সেটা পূর্ণ না হয়… প্রতিটা ছেলেই যেভাবে কষ্ট করছে, স্ট্রেন্থ ও স্কিল নিয়ে অনেক সময় দিচ্ছে বোলাররা, ব্যাটসম্যানরা… যে যার মত ব্যাক্তিগত কাজ করছে। একে আরেককে সাহায্য করছে। সবাই সবার কাজকে অ্যাপ্রিসিয়েট করছে। আমরা এগুলো করার চেষ্টা করছি যেন আমরা ভাল করতে পারি। এখন একটাই প্রত্যাশা, এই জিনিসগুলো যেন আমরা মাঠে নিয়ে আসতে পারি সঠিকভাবে।

প্রশ্ন : এমন উইকেট ডিসঅ্যাডভান্টেজ কিনা?

মাহমুদউল্লাহ : এটা সবসময়ই কঠিন, উইকেট একটু স্লো। স্লো উইকেট হলে রান করা একটু কঠিন হয়। কষ্ট করে রান করতে হবে। এখানকার উইকেট এমন না যে বল ব্যাটে আসবে আর আপনি শট খেলতে পারবেন। খুব সেন্সেবলি খেলতে হবে। একেক বোলারের জন্য একেক শট খেলতে হবে, আপনার স্ট্রেন্থ অনুযায়ী। এখন অপেক্ষা আমরা নিজেরা কিভাবে নিজেদের অ্যাপ্লাই করি।

প্রশ্ন : কামব্যাকের মেন্টাল স্ট্রেন্থ ও স্ট্রেটিজিক্যাল চেইঞ্জ কী?

মাহমুদউল্লাহ : সবার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা থাকে। প্লেয়াররা নিজে থেকেও চিন্তা করে, দলও চিন্তা করে। আমার মনে হয় আমাদের দেশের প্লেয়াররা অনেক হৃদয় দিয়ে খেলে। যে তার দেশের জন্য খেলে সবসময় ১০০ ভাগ দিয়েই খেলে। এই টেস্টে আমরা ১২০ ভাগ দিয়ে খেলব।

প্রশ্ন : ঢাকা টেস্টে দলে কোনো পরিবর্তন?

মাহমুদউল্লাহ : আমরা কিছু পরিবর্তন করতে পারি। আপনারা কাল দেখতে পাবেন, প্রবাবলি কিছু চেইঞ্জ আসবে।

প্রশ্ন : সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ব্যাটিংটা যেমন হচ্ছে টেস্টে সেটি পারছেন না কেন?

মাহমুদউল্লাহ : আমার কাছে মনে হয় শৃঙ্খলার অভাবের কারণেই এমনটা হচ্ছে। যেটি আমি আগেই বললাম যে টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগের লেভেলটাও সেরকম পর্যায়ে থাকতে হবে। তানাহলে পারফর্ম করার সুযোগটি অনেক কম। কারণ বিশেষ করে যেটি আগেই উল্লেখ করলাম যে স্লো এবং স্পিনিং উইকেটে যেখানে বল হয়ত কাছে কম আসে, তখন আপনাকে অবশ্যই সেভাবে খেলতে হবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে খেলতে হবে এবং শৃঙ্খলার ব্যাপারটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। টেস্টে আরও ধৈর্য নিয়ে খেলতে হবে।

প্রশ্ন : উইকেট যখন অপ্রত্যাশিত থাকে তখন একাদশটি কিভাবে ঠিক করা হয়?

মাহমুদউল্লাহ : উইকেট যখন অপ্রত্যাশিত থাকে তখন সম্ভবত একাদশটিও অপ্রত্যাশিত থাকে। এখন যেটি বললাম যে কৌশলগত দিক থেকে এখানে কিছু পরিবর্তন থাকবে। এখন দেখা যাক আগামীকাল।

প্রশ্ন : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এখন সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে, এটার জন্য আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট কতটা দায়ী? বিশেষ করে জাতীয় লিগের কথা যদি বলা হয়?

মাহমুদউল্লাহ : জাতীয় ক্রিকেট লিগে আমার মনে হয় ব্যাটসম্যানেরা সকলেই কম বেশি রান করছে। বোলাররাও উইকেট পাচ্ছে। সুতরাং জাতীয় লিগের কথা যদি বলি আমার মনে হয় ভাল ক্রিকেটই হচ্ছে। আপনি যেকোনো জায়গাতেই খেলেন না কেন, যদি গলির ক্রিকেটেও এক’শ করেন সেটাও কঠিন। এটি এত সহজ নয়। আপনি যেখানেই শতক কিংবা দ্বিশতক করেন সেটা সহজ নয়। আমার মনে হয় যে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক ব্যাটসম্যানেরাই ভাল রান করছে, বোলাররাও উইকেট নিচ্ছে। সুতরাং আমার মনে হয় এখানে ঘরোয়া লিগের কোন অজুহাত দেয়া যাবে না। আমরা আসলে যেটি বললাম যে টেস্ট ক্রিকেটের ধাঁচটি কখনো ধরতে পারি আর যখন ধরি তখন অনেক ভাল ফ্লোতে থাকি। যখন আবার এদিক সেদিক হয় তখন আবার আমরাও নিজেদেরকে গুটিয়ে ফেলি। এই বিষয়গুলোর সমাধানই খুঁজে বের করতে হবে। আর একটাই উত্তর, সেটি হল ধারাবাহিকতা। মানে ধারাবাহিকভাবে আমাদের পারফর্ম করতে হবে।

প্রশ্ন : টেস্ট ক্রিকেটে ১৮টি বছর হয়ে গেছে, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মত দলগুলো ম্যাচের আগের দিনই একাদশ ঠিক করে ফেলে। এই ট্র্যাডিশনে আমরা যেতে পারব কিনা? আপনি কি ঐ পদক্ষেপটি নিবেন কিনা? আমাদের প্রেক্ষাপটে এর বাস্তব যৌক্তিকতা কতটুকু?

মাহমুদউল্লাহ : আপনি একটা ভাল পয়েন্ট বলেছেন। যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন আপনার সেরা একাদশ নিয়ে তাহলে আপনি তাদের কথা আগে থেকেই বলতে পারবেন। আর এতে করে তারাও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারবে। আর আমার মনে হয় এই বিষয়ে কিছু কিছু ইস্যু থাকে যেমন পিচের কন্ডিশনের ইস্যু থাকে। হয়তবা টিম ম্যানেজমেন্ট অনেকসময় দ্বিধায় থাকে যে কে খেলবে আর কে খেলবে না এই ব্যাপারে। তবে অধিনায়ক হিসেবে আমি এই বিষয়টি অবশ্যই অ্যাপ্রেশিয়েট করি। তবে পরিস্থিতি সবসময় হয়তো সবকিছু ডিমান্ড করে না। এরপরেও টিম ম্যানেজমেন্ট যদি কারো কথা চিন্তা করে যে সে খেলতে পারে তাহলে আমরা ওকে জানিয়ে দেই যে তুমি খেলতে পারো। এর ফলে সে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে। আমরা এই বিষয়টি করে থাকি সবসময়।

প্রশ্ন : আমাদের জুনিয়ররা কি খেলতে খেলতে তৈরি হয়? নাকি তারা প্রস্তুত হয়েই খেলতে আসে? কি মনে হয়?
মাহমুদউল্লাহ : প্রথমত আমি একটি বিষয় বলতে চাই। এখানে আমার সিনিয়র এবং জুনিয়র ইস্যুটা খুব বেশি পছন্দ না। আমরা সবাই যখন খেলি, তখন ১১ জন ক্রিকেটারই সমান অধিকার নিয়ে মাঠে নামি। আপনি হয়তোবা এটি বলতে পারেন যে কারও অভিজ্ঞতা বেশি আবার কারও কম। এরপরেও আমরা যখন আমরা মাঠে নামি তখন সেরা একাদশটি নিয়েই নামি। আর এভাবেই চিন্তা করা উচিৎ যে আমি ম্যাচ জেতাতে পারব। সেটি ১১ নাম্বার ব্যাটসম্যানই হোক, কিংবা বোলারই হোক। অনেক সময় ছোট অবদানও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সুতরাং আমি যদি আমার ভূমিকাটি ভাল মত জানি তাহলে আমার কাছে পারফর্ম করা সহজ হবে বলে মনে হয়।

প্রশ্ন : ঢাকা টেস্টে টসটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মাহমুদউল্লাহ : অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যদি আপনি স্লো পিচে খেলেন যেখানে সম্ভবত চতুর্থ ইনিংসে স্পিনাররা বেশি সুবিধা পাবে, সুতরাং অবশ্যই আপনি চাইবেন টসটি জিততে এবং সেখান থেকে সেরাটা নিয়ে আসার।