মুরাদনগরে সব অবৈধ ইটভাটা ও ড্রেজার বন্ধে সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সব অবৈধ ড্রেজার, অবৈধ ইটভাটা, কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে ইট ভাটায় ব্যবহার বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জরীপ করে গর্ত সমূহ ভরাট করতে আগামী ষাট দিনের মধ্যে পরিকল্পনাসহ রিপোর্ট প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল অবৈধ ড্রেজার জব্দ করতে পেট্রোল ডিউটি চালানোসহ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এজহার দায়ের করে মামলা করে তথ্য প্রদানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই রিটে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিগণ ও কৃষকগণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিমিত্তে তালিকা প্রস্তুতেরও কার্যকরী নির্দেশনা জারির নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রীমকোর্ট।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে বার্তা বাজারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ উজ্জ্বল।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), এসি ল্যান্ড মুরাদনগর, বাংগরা বাজার থানা ও মুরাদনগর থানার ওসিকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি মো. মজিবর রহমান মিয়ার রিট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এই আদেশ দেন।

রুলে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার অবৈধ সকল ড্রেজার, অবৈধ ইটভাটা, কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে ইট ভাটায় ব্যবহার বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জরীপ করে গর্ত সমূহ ভরাট করতে আগামী ষাট দিনের মধ্যে পরিকল্পনাসহ রিপোর্ট প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

মামলার সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী দুই মাসের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে হবে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন কৃষি ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ উজ্জল ও জাতিসংঘের স্টেটাস প্রাপ্ত আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের দায়ের কৃত রিট পিটিশন নম্বর ১৪১০৮ /২০২২ মোশন শুনানী শেষে আজ মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট রুল নির্দেশনাসহ এ আদেশ জারি করেন।

জানা গেছে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুসারে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না এবং জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধেরও বিধান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেশির ভাগ জেলায় শীত মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করছে। এমনকি ইটভাটাগুলো জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ ইটভাটা, ফসলি জমির উর্বর মাটি এবং কাঠের ব্যবহার বন্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে গত ৬ ডিসেম্বর সুপ্রীম কোর্টে একটি রিট দায়ের করেন (রিট পিটিশন নম্বর ১৪১০৮ /২০২২) কৃষি ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জনাব অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ উজ্জল ও জাতিসংঘের ইকোসক এর কনসালোটন্সি স্টেটাস প্রাপ্ত সংস্থা আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন জুয়েল। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদেশ দেন সুপ্রীমকোর্ট।

বার্তাবাজার/এম আই

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর