বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ছেলে

অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র মিরাজ। এবছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আজ বৃহস্পতিবার তার গণিত পরিক্ষা। মিরাজ যখন পরীক্ষার শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি নেওয়ায় ব্যস্ত। সেই মুহুর্তে বুধবার সন্ধ্যায় তার বাবা মোতাহার হোসেন খান স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করেন। বুধবার সকালেও বাবার সাথে তার কথায়। বাবার শেষ কথা ‘ভালো করে পরীক্ষা দাও, ভয় পেয়ো না’ এখনও তার কানে বাজে। মনকে কিছুতেই শান্ত করতে পারছে না মিরাজ। বাবাকে হারিয়ে একদিকে বাকরুদ্ধ শোকে স্তব্ধ। অন্যদিকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সারারাত বাবার লাশের পাশে বসে থেকে দোয়া পড়ে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সাদা কাপড়ে মোড়ানো বাবার নিথর দেহ ছুঁয়ে দোয়া নিয়ে পরীক্ষা দেয় মিরাজ। পরীক্ষা শেষ করে বাবার জানাজা পড়তে হয়। এমনই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রামে। মিরাজের বাবা মোতাহার হোসেন খান (৪৫) আখাউড়া গ্রীন ভ্যালী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ছিলেন। বুধবার বিকালে পরিবারের লোকজনের ডাকাডাকিতে ঘুম থেকে না উঠায় আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মোতাহার হোসেনের আকষ্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শেষ বারের মত দেখতে বাড়িতে ছুটে যায়।

মোতাহার হোসেনের প্রতিবেশি ও তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ সাজ্জাত হোসেন বলেন, মোতাহার হোসেন অনেক পরিশ্রম করে একটি মান সম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে শিক্ষাঙ্গণের জন্যও ক্ষতি হলো। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।

আখাউড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ বাবুল মিয়া বলেন, মোতাহার খুব ভালো মনের মানুষ ছিল। তার মত্যুতে এলাকায় বড় ক্ষতি হলো। দোয়া করি আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করেন।

পারভেজ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর