খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শ্মশানের গাছ কেটে কবর খোঁড়ার অভিযোগ

নওগাঁর ধামইরহাটে আদিবাসী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের তফশীলি সম্পত্তির শ্মশানের গাছ জোরপূর্বক কেটে সেখানে ভিক্ষু মেশিন দিয়ে পুরাতন ও নতুন কবরের মাটি খনন করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম চক ভবানী এলাকার গাবরিয়াল হেমরম এর ছেলে পরিমল হেমরম (৫১) বাদী হয়ে গত সোমবার (১ আগষ্ট) ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে মো. আবুল হোসেন (৫৫), মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে জিহাদ হোসেন (৩৫), মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে আমজাদ হোসেন (৫০), ফারাজ উদ্দিনের ছেলে আ: কুদ্দুস (৪৫), মোতার ছেলে মো. রহমত (৩০), ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. আ: রহিম (৫০), মৃত আ: মজিদের ছেলে মো. আলামিন (৪০), মৃত সরকারের ছেলে মো. আ: রহমান (৫৮), মো. ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. মোতালেব (৪০), মো. আ: রশিদের ছেলে মো. নাসিম (২৪), মো. তোফাজ্জলের ছেলে মো. রজব আলী (৪০), মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. রেজাউল (৪২) এবং মো. হাকিমের ছেলে মো. গোলাপ হোসেন (৩৫) সকলেই ওই ওয়ার্ডের চকবেণী খেলনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ধামইরহাট থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড চকবেণী মৌজায় আদিবাসী খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষ সেখানে সিএস ও এসএস খতিয়ানে শ্মশান হিসেবে ৬৫ শতাংশ জমি ব্যাবহার করতেন। ওই জমিতে তাঁদের পুরনো ও নতুন ২শ ১২টি কবরের পাশাপাশি ৩০ বছর আগে রোপন করা ১০০টি আম গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, গত শুক্রবার (১৫ জুলাই) থেকে রোববার (১৭ জুলাই) উপরের বিবাদীগণ তিন দিন ধরে ওই শ্মশানের উপর থেকে ৮৫টি আম গাছ ও একটি বড় পাইকরসহ একটি তাল গাছ কুড়াল ও করাত দিয়ে কেটে বিক্রি করেন। এতে তাঁদের ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

অন্যদিকে বাদীর নিষেধ উপেক্ষা করে বিবাদীগণ ওই শ্মশানের পুরাতন ও নতুন কবর ভিক্ষু মেশিন দিয় মাটি খনন করে সমান করায় স্থানীয় আদিবাসী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মাঝে চাপা খোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যে কোন মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবিষয়ে বিবাদী মো. রহমত আলীর সাথে কথা হলে তিঁনি নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, সরকারি গাছ কাটা তাঁদের ঠিক হয়নি। তিঁনি এও বলেন, গ্রামের সকলেই মিটিং করে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো দেলদার হোসেনের পরামর্শ নিয়ে ২৫-৩০ জন মিলে গাছ গুলো কেটেছেন।

অপর বিবাদী আমজাদ হোসেন বলেন, গাছ কাটার আগের দিন গ্রামের কয়েকজন মিটিং করেন। সেদিন তিঁনি অসুস্থ থাকার কারণে মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বাদী তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ধামইরহাট পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বৈদ্যনাথ কর্মকার জানান, আদিবাসী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শ্মশানে অনুমতি না নিয়ে দুষ্কৃতকারীরা অন্যায় ভাবে সরকারের গাছ কেটেই ক্ষান্ত হননি তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কবরের মাটি গুলো পর্যন্ত খনন করে সমান করে ফেলা হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক রামজনম রবিদাস খোভের সাথে বলেন, তাঁরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন শ্মশানে গাছ কাটার পেছনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দেলদার হোসেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। থানার ওসিকে অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আপস করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দেলদার হোসেন জানান, তিঁনি ছোটবেলা থেকেই জানতেন ওই জায়গাটি আদিবাসী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের।গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্মশানের গাছ কাটার বিষয়ে তিঁনি কাউকে কোন পরামর্শ দেননি বলেন।

গাছ কাটার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, শ্মশানের মালিক সরকার এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড মহোদয় অপরাধীদের তালিকা দিলে আমরা অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, শ্মশানের বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রেজুয়ান/বার্তাবাজার/এম.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর