টঙ্গীতে বংশীয় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার চিন্হিত মাদক কারবারি পারুলী আক্তারের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। মাদককারবারি, হত্যা, হত্যা চেষ্টা, অর্থ আত্মসাৎ, হুমকিসহ সকল অপকর্মের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত পারুলীর সকল আত্মীয় স্বজনরা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাদক সম্রাজ্ঞী পারুলী তার স্বপরিবারের সকল কে নিয়ে গড়ে তুলেছেন মাদকের এক অভয়ারণ্য স্বর্গরাজ্য। আর এই স্বর্গরাজ্য নিয়ন্ত্রণে স্বশরীরে কাজ করছেন প্রায় ১০০-১৫০ শতাধিক মাদক কারবারি।

অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, পারুলীর অন্যতম সহযোগী পারুলী আক্তারের বড় বোন পারভীন আক্তার। মাদকের চালান গ্রহণ করেন পারভীন। তারপর সে চালানের ছোট ছোট অংশ বিভিন্ন জায়গায় পৌছানোর দায়িত্ব তার। পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি, মারামারি সহ একাধিক মামলা রয়েছে। দেশিয় চোলাই মদের পাইকার ছিলেন তিনি। ২০০০ সালের আগে থেকে চোলাই মদের সাথে সম্পৃক্ততা ছিলেন। ২০১৬ সালের পর থেকে গাজা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। টঙ্গী মডেল থানায় চোলাই মদের একাধিক মামলা রয়েছে। পারভীন ছেলে হৃদয়। হত্যার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

পারুলীর আরেক সহযোগী পারুলীর বড় বোনের বেয়াই মনির হোসেন ওরফে জামাই মনির। মাদকের মালামাল ক্রয় বিক্রয়ের সময় কোনো ঝামেলা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তার সমাধান করেন তিনি। জামাই মনিরের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী আলমগীরের হত্যা, এরশাদ নগরের ২ নং ব্লকের আসলামের হত্যার চেষ্টা, অর্থ আত্মসাৎ, হুমকি প্রদানসহ একাধিক মামলার আসামি তিনি।

পারুলীর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী পারুলীর স্বামী মানিক হোসেন ওরফে মানিক শান। পুলিশের সোর্স আশিক হত্যা মামলার আসামি মানিক। এছাড়াও মাদকের একধিক মামলার আসামি সে।

পারুলীর ব্যবসায়ীক উপদেষ্টা হলেন পারুলী আক্তারের মা জুলেখা বেগম। তিনি খাজা বাবার তবারকের টাকা সংগ্রহের আড়ালে ৫০০ পিছ ইয়াবা সহ আটকের ঘটনাও রয়েছে।

পারুলীর ভাই জলিল ওরফে দাইত্তা জলিল অটোরিকশা দিয়ে মাল সরবরাহ করে। মাদকের খুচরা বিক্রেতা তিনি। মাদকের বিভিন্ন আস্তানায় জলিলের মাধ্যমে মাদক পৌছায় তিনি। জলিলের বড় ছেলে রাজু এবং ছোট ছেলে রাজা। রাজু মাদক কারবারি ও রাজা একাধিক ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় প্রশাসন গ্রেফতার করে। তার মেয়ে নিপা এবং পিংকি মাদক কারবারের সাথে জড়িত। রাজার বৌ আলো সেও মাদক কারবারি। আলো নিজ শরীরে মাদক বহন করে।

ফারুক পারুলীর অন্যতম সহযোগী। পারুলের ভাই জলিলের মেয়ের জামাই। নিপার স্বামী। সে মাদক কারবারি। ইয়াবার পাইকারি কারবারি। সে অটো রিকশা দিয়ে শাহ আলম এর মাধ্যমে মালামাল পৌছায়। শাহ আলম হচ্ছে পারুলীর মামাতো ভাই। শাহ আলম ও সাগর কে দিয়ে তারা ইয়াবার চালান সরবরাহ করে।

এছাড়াও খালেদা আক্তার ওরফে খালেদা ভান্ডারি নামের এক সহযোগী মাদক কারবারে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। খালেদার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।

তাছাড়া ১ নং ব্লক সোর্স খলিলের স্ত্রী লিপি, ৩ নং ব্লকের স্মৃতি, ১ নং ব্লকের লিপির ভাই আকাশ, জামাই মনিরের উকিল মেয়ে নাজমা, নাজমার জামাই কোরবান মাদক মামলার আসামি। সকলে পারুলীর সহযোগী।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর এই মাদক সম্রাজ্ঞী পারুলী বিভিন্ন সময় একাধিক মাদক মামলার আসামি। জেল হাজতে গিয়েছেন একাধিকবার। জেল হাজত থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিবারই জোরে সোরে চালিয়ে গিয়েছেন তার মাদক সম্রাজ্য। প্রশাসন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় পরিচালনা করছেন তার মাদকের সিন্ডিকেট। ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি লিখিত আবেদন পত্র এই মর্মে প্রদান করেন যে পারুলী আক্তার আর ভবিষ্যতে মাদক কারবারি করবেন না এবং ছোট খাট বৈধ ব্যবসায় জীবন যাপন করবেন। কিন্তু লিখিত এই আবেদন পত্র কে পুজি করে সে তার মাদক সম্রাজ্য গোপনে চালয়ে যাচ্ছেন। মাদক কারবারি করে পারুলী আক্তার গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার অট্টালিকা।

একাধিক গণমাধ্যমে একাধিকবার পারুলীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যার হুমকি প্রদান করে পারুলীর স্বামী মানিক। এছাড়াও মাদকের টাকার জন্য যুবককে পারুলী ও পারুলীর স্বামী মানিক কর্তৃক পাষবিক নির্যাতন ও মানিকের মাদক ভাগাভাগির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) এ ভাইরাল হয়।

সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে পারুলীর অন্যতম সহযোগী মনির হোসেন ওরফে জামাই মনির বলেন, আমরা মাদক কারবারির সাথে জড়িত নই। পারুলী আগে ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো কিন্তু এখন সে করে কিনা তা আমার জানা নেই।

তবে মনিরের বিলাশ বহুল বাড়ী সম্পর্কে বলেন, আমার বাড়ীটি আমার পরিবার করে দিয়েছে। তাছাড়া আমি আর কিছুই বলতে পারবো না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পারুলী আক্তার বলেন, আমি আগে মাদক কারবারি ছিলাম। তবে পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত দেয়ার পর থেকে আমি মাদক কারবারি বন্ধ করে দিয়েছি। পূর্বের উপার্জিত অর্থ দিয়ে আমি বাড়ী করেছি। তাছাড়া আর কিছুই বলবো না।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সব সময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। পারুলীর বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখছি। উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

আরিফ/বার্তাবাজার/এম আই

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর