রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে মালয়েশিয়ার কঠোর পদক্ষেপ অভিবাসন বিভাগের

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে মালয়েশিয়া কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) স্থানীয়দের সতর্ক করেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় বা তথ্য গোপন রাখলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি খাইরু দাজায়মি দাউদ।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক দাতুক সেরি খাইরুল দাজাইমি দাউদ বলেছেন, দোষী প্রমাণিত হলে ব্যক্তিকে ৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা ও এক থেকে পাঁচ বছরের বেশি জেল হতে পারে এবং অভিবাসন আইনের ৫৬ ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিচালক আরোও বলেছেন, দেশটির জলসীমায় অবৈধভাবে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের অবৈধ অভিবাসী (পাতি) হিসাবে অভিবাসন ডিপোতে আটক করা হবে।

২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশব্যাপী অভিবাসন ডিপোতে আটক রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছিল দুই হাজারেরও বেশি।

দেশে আটক রোহিঙ্গাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে খায়রুল দাজাইমি সাংবাদিকদের বলেন, এটি জাতীয় নীতির সাথে জড়িত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে জাতিগত নিষ্পত্তির জন্য তৃতীয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছেন ২০ এপ্রিল পেনাংয়ের সুঙ্গাই বাকাপ অস্থায়ী অভিবাসন ডিপো থেকে পালিয়ে আসা আরও ৬০ জন রোহিঙ্গা বন্দীকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। “তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা এখনও করা হচ্ছে এবং ধারনা করা হচ্ছে তারা এখন কুয়ালালামপুর, পেনাং এবং সেলেয়াংয়ের আশেপাশে তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে।

মালয়েশিয়া কি পরিমান রোহিঙ্গা শরনার্থী অবস্থান করছে তার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারনা করা হচ্ছে এই সংখ্যা লক্ষাধিক হতে পারে। বাংলাদেশের পরেই মালয়েশিয়ায় বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থী অবস্থান করছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তারা জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর কার্ড বহন করছে। উন্নত জীবন যাপন, অর্থ উপার্জন, বিয়ে সংসারের লোভে ঝুকি অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায় রোহিঙ্গারা। সমুদ্র পথে ট্রলারে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সময় বহু রোহিঙ্গা শরনার্থীর সলিল সমাধি হয়েছে এবং বহু আটক ও হয়েছে।

আশরাফুল/বার্তাবাতার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর