‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ মুগ্ধ হচ্ছে দর্শনার্থীরা

লক্ষ্মীপুরে বর্ণিল শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন বিস্তীর্ণ বিলে ফুটে থাকে লাল, সাদা আর নীল শাপলা। ভরা মৌসুমে প্রাণ ফিরেছে লক্ষ্মীপুরের শাপলা বিলে। শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন বিলের জলে শাপলার সঙ্গে। তবে সড়কের ভোগান্তিতে বিপর্যস্ত দর্শনার্থীরা।

জেলার সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জের পূর্ব চরমনসা গ্রামে প্রায় দুই একর জমিতে জলা কেটে পরিকল্পিতভাবে এই শাপলা বিলটি গড়ে তোলেন প্রকৃতিপ্রেমী স্থানীয় জাহাঙ্গীর হোসেন। কোন প্রকার বাণিজ্যিক চিন্তা ছাড়াই শুধুমাত্র সবুজ প্রকৃতি ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর হোসেন নিজ জমিতে শাপলা বিলটি গড়ে তোলেন।

লক্ষ্মীপুরের প্রত্যন্ত একটি গ্রামে ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ নামে গড়ে তোলা শাপলা বিলটি আপন সৌন্দর্য্যে নয়নাভিরাম মুগ্ধতা বিলিয়ে যাচ্ছে। রক্তলাল বর্ণের ফুটে থাকা হাজার হাজার শাপলা ফুলে ভরা মনমুগ্ধকর এ বিলটি দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে দর্শনার্থীরা। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শাপলা বিল নয় এটি বরং প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে এটি। বিস্তীর্ণ বিলের নান্দনিক শাপলা দেখার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

গত তিন বছর যাবত গড়ে তোলা এই শাপলা বিলটি দেখভালসহ নিয়মিত পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক। নির্ধারিত হারে তাদের পারিশ্রমিকসহ বাগান কেন্দ্রিক আনুষাঙ্গিক যাবতীয় ব্যয় বহন করেন উদ্যেক্তা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন। দর্শনার্থীদের ভাল লাগার জন্য একটু ঘুরাঘুরির সুবিধার্থে বিলে ছোট্ট একটি ডিঙি নৌকা সরবরাহ রাখা হয়েছে। তবে কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই নিজ দায়িত্বে গুরা যায় ডিঙি নৌকায়। প্রতিদিন সকাল-বিকাল সৌন্দর্য্য পিয়াসী মানুষ বাগানটি দেখতে আসেন। বিশেষ করে ভোর বেলায়ে এবং বিকেলে দর্শনার্থী বেশী যাতায়াত করেন। কারণ সকাল ১০টা পর্যন্ত শাপলা বাগানের লাল শাপলা পাপড়ি ছড়িয়ে থাকে নয়নাভিরাম মুগ্ধতায়। আর বিকেলে সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তোলে পুরো বিল। ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ নামের এ শাপলা বিল দেখতে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়েও আসেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

তবে এই শাপলা বিলটি গড়ে তোলার পেছনে উদ্যেক্তার কোন প্রকার অর্থনৈতিক লাভের উদ্দেশ্য না থাকলেও অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন এখানকার ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীরা। বাগানটির পাশে আগে দেই তিনটি দোকান থাকলেও শাপলার বিলটি সেজে উঠার পর এটিকে ঘিরে অসংখ্যা দোকান বেড়েছে। এগুলোর বেশীরভাগই ছোট ছোট চা-নাস্তার দোকান। এতে কর্মসংস্থান বেড়েছে স্থানীয় কিছু বেকার যুবকের। দর্শনার্থী আসা যাওয়া থাকায় আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে বলে জানায় স্থানীয় দোকানীরা।

দর্শনার্থীরা এমন উদ্যেগের প্রশংসা করে জানান, প্রত্যন্ত গ্রামে সবুজ গাছগাছালী সমৃদ্ধ প্রকৃতি ছাড়া দর্শন মুগ্ধতায় ভাললাগার আস্বাদন গ্রহণে তেমন কোন কিছুই নেই। যুগ যুগ ধরে একই প্রকৃতি দেখে ঘোর লেগে গেছে স্থানীয়দের। এর মাঝে এই শাপলা বিলটি অন্যরকম এক ভাললাগার সৃষ্টি করেছে। সব ধরণের কাজের চাপে অনেক সময় নুড়ে পড়তে হয়। তাই ছুটির দিনে কিংবা অবসর সময় কাটাতে এই শাপলা বিলে দেখতে ছুটে আসেন তারা। পরিবার পরিজন নিয়েও আসেন কেউ কেউ।

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসে বাবু জানান, উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর সৌন্দর্য্য বর্ধনে শাপলা বিলটি তৈরি করেছেন। এতে এলাকাটিরি যেমন পরিচিতি বাড়ছে পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এবং জলবায়ু পরিবর্তনে বেশ ভূমিকা রাখবে এই শাপলা বিলটি।

সাহেব বাড়ি শাপলা বিলের উদ্যেক্তা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখনকার সময়ে নানান ছুতোয় গ্রামাঞ্চলেও প্রকৃতি উজাড় হচ্ছে। অথচ প্রকৃতি অক্সিজেন ও সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। সবুজ প্রকৃতি লালন ও এর সমৃদ্ধির চিন্তা থেকেই এমন পরিকল্পনা তাঁর। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের প্রায় দুই একর জমিতে শাপলা চাষের উপযোগী খনন ও সেচ কাজ সম্পন্ন করেন। শেষে দিনাজপুর থেকে রক্ত বর্ণের শাপলা বীজ সংগ্রহ করে চাষাবাদ করেন। এ বাগানের জমে থাকা শ্যাওলা ও আগাছা উৎপাদনে বাগান পরিচর্যার তিনি নিজেও স্ব-শরীরে কাজে নেমে পড়েন।

এসময় তিনি আরও জানান, শাপলা বাগান তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয় তাঁর উদ্যেগ। গ্রামের রাস্তার পাশে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে তিনস্তর বিশিষ্ট গাছ লাগাচ্ছেন। এর মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছ রয়েছে। একইসঙ্গে পাখপাখালীর অভয়ারণ্য ও পাখীর খাবার আহরনের সুবিধা ক্ষেত্র সৃষ্টিতে তিনি ধীরে ধীরে কৃত্রিম অরণ্য গড়ে তুলছেন। গ্রামে শিশুদের ভাললাগার সহায়ক পরিবেশ সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাসেল/বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর