চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে তবুও নির্বিকার বাকৃবি প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দীর্ঘ দিন যাবৎ চুরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বাই-সাইকেল। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাইসাইকেল চুরি হলেও এর কোনো সমাধান করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বাইসাইকেল চোরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাকৃবি ক্যম্পাস। রবিবার (৭ মার্চ) বিকেল ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সামনে থেকে একটি বাইসাইকেল চুরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বাইসাইকেল চুরির ঘটনাটি দেখা যায়।

তবে নিম্নমানের সিসি ক্যামেরার কারণে চোরের চেহারা শনাক্ত করতে পারেননি নিরাপত্তা শাখার কর্মীরা। এছাড়াও এ মাসে আরও কয়েকটি বাইসাইকেল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুরি হওয়া বাইসাইকেলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের লেভেল-৩, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থী মো. রাফী উল্লাহ ফুয়াদের। দুপুর ১২টার দিকে তার কালো-কমলা বর্ণের সাইকেলটি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে রাখেন। পরে সন্ধ্যা ৭ দিকে কাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন ওই জায়গায় তার সাইকেলটি নেই। সাইকেল চুরির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের
নিরাপত্তা শাখায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। চুরির বিষয়ে মো. রাফী উল্লাহ ফুয়াদ বলেন, নিরাপত্তাকর্মী ও সিসিক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়তই বাইসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। দিনের পর দিন বাকৃবিতে চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। চোরদের একটি নির্দিষ্ট দলই বার বার এই চুরির ঘটনা গুলি ঘটাচ্ছে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সাইকেল চুরির ঘটনার নি¤œ মানের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়ে তারা তাদের দ্বায়িত্ব শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নি¤œ মানের সিসি ক্যামেরার জন্য চোরের মুখ স্পষ্ট ভাবে শনাক্ত করা যায়নি। এছাড়াও গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় অর্ধ শতাধিক সাইকেল চুরি হয়েছে যার একটিও শিক্ষার্থীরা ফেরত পাননি। আমি বিশ^বিদ্যালয়ের
প্রশাসনের কাছে দ্রুত আমার সাইকেল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

এছাড়াও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বেও একই জায়গা থেকে অনেক শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে
নিরাপত্তা শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৬০ টি সিসি ক্যামেরারা মধ্যে শুধুমাত্র আটটি সিসি ক্যামেরার লিংক পাওয়া যায়। এমনকি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো নতুন সিসি ক্যামেরা সংযোজন করা হলেও কৃষি অনুষদের করিডোরের মত গুরুরত্বপূর্ণ জায়গায় কোন সিসি ক্যামেরা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষর্থী বলেন, প্রশাসনের জানা উচিত বছরে কি পরিমান চুরির ঘটনা ঘটে। আমার একদমই নতুন কেনা রেন্ধসঢ়;জার ম্যাক্স
সাইকেল হারানো যায় ফজলুল হক হল থেকে যখন গত ইদের ছুটিতে বাসায় গিয়েছিলাম।সাইকেল পরিষ্কার করা একদমই বিরক্তিকর স্বত্তেও ঐদিন হঠাৎ অনেক যতœ করে মুছে তালাবদ্ধ করে রেখে গিয়েছিলাম।

কিন্তু কে জানত নগদ কিছু টাকার লোভে কেউ ওত পেতে থাকবে পরবর্তীতে হলে এসে দেখি সাইকেল লাপাত্তা। হল প্রশাসন, গেটম্যানদের বলে কোন ফল হয়নি। হলে তোহ আর সিসি টিভি ক্যামেরা নাই যে
সেটা ধরা পড়বে। পূর্বেও অনেকেই অনেক কিছু বলেছে, ভার্সিটির প্রশাসন যেইসেই। সম্প্রতি ঈশা খাঁ হলে একজন সাইকেল চোর ধরা পরে এবং সে আগেও হল থেকে দুটি সাইকেল চুরি করেছে বলে স্বীকার করে। আমরা উত্তম মধ্যম দিয়ে তাকে প্রক্টর স্যারের হাতে তুলে দেই, এবং তার থেকে চুরি করা সাইকেলের ক্ষতিপুরণও নেয়ার কথা বলে প্রক্টর স্যার। কিন্তুু আজও সেই ক্ষতিপুরণ দেয়ার কোন নাম গন্ধ নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার চীফ সিকিউরিটি অফিসার মহিউদ্দিন হাওলাদার বলেন, সাইকেল চুরির ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি এবং সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছি। আমরা সাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা করছি। নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো.আব্দুল আলীম বলেন, আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নিরাপত্তা শাখার পর্যাপ্ত পরিমান নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় সমস্যা পোহতে হচ্ছে। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব চুরিি ঘটনা থেকে নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করছি।

এ বিষয়ে প্রক্টও ড. মো. আজহারুল হক বলেন, ঘটনা শুনার পর আমি নিরাপত্তাকর্মীদের দ্রুত সাইকেলটি খুুজে বের করার নির্দেশ দেই। ওই সময়ে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী বলেন, আমার ডিউটি শুরু হয় বিকাল ৪ টায়। আমি সময়মত এসেছিলাম কিন্তু আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষ, কোষাদক্ষের কার্যালয় সহ প্রোক্টর অফিসের নিরাপত্তার জন্য মোতায়ন করা হয়েছে। আমার একার পক্ষে যা কোনো ভাবেই সম্ভব না। সাইকেল চুরির সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর