১১, ডিসেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ২ রবিউস সানি ১৪৪০



  • যশোরে পদত্যাগ করলেন বিএনপির ১০,০০০ নেতাকর্মী

    দলের প্রার্থী না পেয়ে বিএনপি ছেড়ে দিলেন বিএনপির যশোরের মনিরামপুর শাখার নেতা-কর্মীরা। দলের সঙ্গে যারা সম্পর্ক ছেদ করেছেন, তারা জানান, গত দুই দিনে এই সংখ্যাটি অন্তত ১০ হাজার। যশোর-৫ আসনে ২০০১ সাল থেকেই বিএনপি নিজের প্রার্থী না দিয়ে ছাড় দিয়ে আসছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে।কিন্তু এবার বিদ্রোহ করে বসেছে বিএনপি। শনিবার মুফতি ওয়াক্কাস বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি নিয়ে এলাকায় যাওয়ার পর হামলা হয়েছে তার গাড়িতে। আর অভিমানে বিএনপি থেকে পদত্যাগের হিরিক পড়ে।
    সোমবার ১০ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেনের হাতে তিন হাজার নেতাকর্মী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।উপজেলার ১৭টি ইউনয়নের সব নেতাকর্মীরা পদত্যাগপত্রে সই করেছেন বলেও জানান তিনি। এই সংখ্যাটি সাত হাজার। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পদত্যাগ করেন।

    এ ব্যাপারে পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম বলেন,‘অষ্টম ও নবমসংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যদিও মনিরামপুরে তার তেমন প্রভাব নেই। আবার স্থানীয় জোটের সাথে তার সম্পর্ক অত্যন্ত শীতল। ২০০১ সালে জিতলেও ২০০৮ সালে তিনি হেরে যান। এরপর গত ১০ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেননি তিনি।’

    জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ বলেন, মনিরামপুর উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌর শাখা এবং উপজেলা শাখা মিলে ১০ হাজারের মতো নেতাকর্মী আছেন। আমি যতদূর জানি ৩ হাজার নেতাকর্মী এখন পর্যন্ত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। বাকি সবাই স্বাক্ষর করেছেন এবং মঙ্গলবার নাগাদ হয়তো মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনের হাতে জমা দেবেন।’
    তবে দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • ১৫ বছরে ৫৫ নারীকে হত্যা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা!

    রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে পুলিশ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন মিখাইল পপকভ (৫৩)। তবে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে হত্যা করার অভিযোগে তাকে দ্বিতীয় দফায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ২০১৫ সালে একই অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ইর্কুত্স্কের আদালত।

    জানা গেছে, সাইবেরিয়ার ইরকুত্স্ক এলাকার কাছে আঙারাস্ক শহরের আশেপাশে ১৯৯২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৫৫ জন নারী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেন পপকভ। এসব নারীদের বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এমনকি হত্যার আগে তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে ধর্ষণও করেছেন তিনি।

    গভীর রাতে নারীদের গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পপকভ তাদের হত্যা করতেন বলে জানা গেছে।

    এ হত্যাকাণ্ডের কাজে কুড়াল, হাতুড়ি ও পুলিশের গাড়ি ব্যবহার করতেন পপকভ। পরে এ ঘটনায় ২০১২ সালে একটি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমের পুলিশ তার গাড়ি শনাক্ত করতে সক্ষম হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধরা পড়ার পর প্রথমে ২০টি খুনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন পপকভ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আঙারাস্ক শহরকে দুশ্চরিত্র নারীদের কবল থেকে ‘বিশুদ্ধ’ করার অভিযানে নেমেছিলেন তিনি।

    কিন্তু মিখাইল পপকভের বিরুদ্ধে ২২ জনকে হত্যা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ইর্কুত্স্কের আদালত। তবে অন্যান্য হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তও শুরু হয়ে যাওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে পুলিশের হেফাজতেই রাখা হয়।

  • নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি – এ্যানি চৌধুরী

    লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দিয়ে কারাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে । জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি রয়েছে। তার প্রথম দাবি হল, খালেদা জিয়ার মুক্তি। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের এ নির্বাচন ও আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা। ২০১৮ নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ২০০১ আর ২০০৮ এ নির্বাচন করেছি। আর এখন নির্বাচন এবং আন্দোলন করছি, যাকে বলা যায় ভোটযুদ্ধ। এ যুদ্ধে আমরা দেশব্যাপী অংশগ্রহণ করেছি। যেভাবে সারাদেশে নেতাকর্মীরা এক এবং ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয় সুনিশ্চিত।

    মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের গোডাউন রোডস্থ এলাকায় নিজ বাস ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
    তিনি আরো বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে নেমেছে। দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। ২০১৪ সালে ভোটবিহীন নির্বাচনের নামে দেশকে জিম্মি করে একটি সন্ত্রাসমূলক নির্বাচন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বাক-স্বাধীনতাকে আওয়ামী লীগ এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। ১৯৭৪ সালের বাকশালের মত গুম ও হত্যা করেছে। দলের বহু নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। বিগত ৫ বছরে তারা লক্ষ্মীপুরের অর্ধ-শতাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে।

    নির্বাচন প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে ভোটের পরিবর্তে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি সৃষ্টি ও হুমকি দিচ্ছে। তাদের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের প্রচারে বাধা দিচ্ছে। পোস্টার ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে। সোমবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার বাসায় হামলার চেষ্টা চালায়। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচনের কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান লিটন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহবুব আলম মামুন ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

  • ঘাটাইল সরকারী জিবিজি কলেজে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গইলের ঘাটাইল উপজেলায় সরকারী জিবিজি কলেজে শিক্ষার মান উন্নয়ন ,শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করন সন্ত্রাস ও নেশামুক্ত শিক্ষাঙ্গন নির্মানের লক্ষে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সরকারী জিবিজি কলেজ আয়োজিত কলেজ হল রুমে অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল(৩) ঘাটাইল আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান খান,অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মতিউর রহমান,জুল- ফিকারই হায়দার বেলী খালিদ প্রভাষক ওয়াহিদ শরীফ, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্মসাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিং প্রমুখ।

  • শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদীতে নৌকার প্রার্থির পথসভা অনুষ্ঠিত

    তারিকুল ইসলাম: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর ৩ (শ্রীবরদীÑঝিনাইগাতী) আসনে আওয়ামীলীগ ও মহাজোট মনোনিত প্রার্থী এমপি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চানের (নৌকা প্রতীক) প্রথম নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ১০ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরনা ইউনিয়নের কর্ণঝোড়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সিংগাবরনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. রহুল আমিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামীলীগ ও মহাজোট প্রার্থী এমপি একেএম ফজলুল হক চান। তিনি বক্তব্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ আসনে বিগত ১০ বছরে যা উন্নয়ন হয়েছে তা স্বাধীনতার পর আর কেউ উন্নয়ন করতে পারে নাই। আরো উন্নয়ন মূলক কাজ চলমান রয়েছে। এজন্য চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আবারো নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসাতে হবে।

    ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু ছালেহ মো. নুরল ইসলাম হিরু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কৃষিবিদ ফররুখ আহমেদ ফারুক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আল ফারুক ডিউন, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল মতিন, ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান লেবু, উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ ছালেহ, মোহাম্মদ আলী লাল মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছালাহ উদ্দিন ছালেম, আওয়ামী লীগ নেতা পৌর মেয়র আবু সাইদ, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান এডিএম শহীদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক বনিজ উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ম আহবায়ক লিয়াকত হোসেন লিটন, উপজেলা শ্রমিকলীগ আহবায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য আবু জাফর, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট মেরাজ উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল হক জেনারেল, সিংগাবরনা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা নুরল ইসলাম প্রমূখ। পথসভায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সমর্থক অংশ গ্রহণ করেন।

  • মহাজোটে দ্বৈত প্রার্থী, লাভ কার?

    আর মাত্র ১৯ দিনের অপেক্ষা। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। ইতোমধ্যে ভোটযুদ্ধের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।

    এবার মাঠে সবার নজর থাকবে বড় দুই জোটের দিকে। যার একটি মহাজোটের নেতৃত্বে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি নেতৃত্ব দিচ্ছে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।

    ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি জোট ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দিলেও ২ শতাধিক আসনে দ্বৈত প্রার্থী নিয়ে বিপাকে মহাজোট। যেটিকে রাজনৈতিক বোদ্ধারা, ক্ষমতাসীন জোটের জন্য নেতিবাচক বলছেন এবং এটি ভোটের ফলে ভয়াবহ বিপর্যয় আনতে পারে বলেও সতর্ক করছেন।

    বিএনপি জোটের ৩০০ আসন ভাগাভাগিতে দেখা গেছে, ২৪২টি আসনে সরাসরি বিএনপির প্রার্থী, বাকি ৫৮টিতে শরিকরা। এর মধ্যে ২৯৮ প্রার্থীই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। দু’জন ভিন্ন প্রতীকে ভোট করবেন। তবে সেখানেও ধানের শীষ বা তাদের জোটের কোনো প্রার্থী নেই।

    অন্যদিকে, মহাজোটের ৩০০ আসন ভাগাভাগিতে দেখা গেছে, ২৫৮ প্রার্থী আওয়ামী লীগ, আর বাকি ৪২ আসন শরিকদের। এর মধ্যে ২৭২ জন নৌকা প্রতীকে, দু’জন বাইসাইকেল আর ২৬ জন লাঙ্গল প্রতীকে।

    এর বাইরেও জাপার লাঙ্গল নিয়ে ১৬২, বিকল্পধারার কুলা প্রতীকে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদের বিপরীতে আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী রয়েছেন। দুই জোটের আসন ভাগাভাগির বাইরেও ৯৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, যার সিংহভাগ ক্ষমতাসীনদের।

    আসন ভাগাভাগির এই চিত্রে দেখা যায়, মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের ২৫৮ প্রার্থীর পাশাপাশি ২ শতাধিক আসনে অন্য শরিক জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রেন্টের প্রার্থী রয়েছেন। আর শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়া বাকি ৪২ আসনের কয়েকটিতেও ‘স্বতন্ত্র’ নামের বিষফোঁড়া রয়ে গেছেন। এতে করে আনুমানিক শ’খানেক আসন ছাড়া বেশিরভাগ আসনেই মহাজোটের দ্বৈত প্রার্থী।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দ্বৈত প্রার্থী বা ওপেন করে দেয়ার নীতি আওয়ামী লীগের লাভের চেয়ে ক্ষতির শঙ্কায় বেশি।

    বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনের ভোট বিশ্লেষণের আলোকে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের ভোট দুই ভাগ হবে। বিপরীতে বিরোধী জোটের প্রার্থীরা এককভাবে ভোট পাবেন।

    কবির আহমদ নামে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, ‘উন্মুক্ত আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে প্রকৃত অর্থে লাভবান হবে কে এ নিয়ে হিসাব কষার সময় এখনও না আসলেও কিছুটা হলেও ধারণা করা যায়। এই ধারণায় আওয়ামী লীগের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কম। একইভাবে ভোটের মাঠে এই আসনগুলোতে জাতীয় পার্টিও যে লাভবান হবে তা না। এতে করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোটগুলো ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যার সুফল ভোগ করবে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা।’

    যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলছেন না। কিন্তু, তাদের একটি অংশ এই ডাবল প্রার্থী দেয়াকে নিজেদের কৌশল হিসেবে দেখছেন। কারণ, হিসেবে তারা বলছেন, মাঝপথে বিএনপি সরে গেলে যেন জাতীয় পার্টিকেই বিরোধী দল হিসেবে নিয়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া যায়। অনায়াসেই সরকার ও বিরোধীদল গঠন করা যায়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই অনুমান সঠিক হলেতো তারাই গেইনার। অন্য রকম হলে বিপর্যয় হবে আওয়ামী লীগেরই। সুফল নেবে বিরোধীপক্ষ।

    তবে এ নিয়ে আওয়ামী শিবিরে কোনো ভাবনা নেই। তারা বিষয়টিকে পাত্তাই দিচ্ছে না।

    এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘জোটের বাইরে অনেক শরিকই নির্বাচন করছে। এটা আমাদের জোটগত সিদ্ধান্ত।’

    তবে এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা জোটগতভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিয়েছি। এর বাইরে কারা, কীভাবে ভোট করবেন, সেটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই।’

    তবে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ভোটের বাজারের কথা এখনতো বোঝা যাবে না, তাই এখনই এই বিষয়টা নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

    মহাজোটে থেকেও জাতীয় পার্টির এত বিশাল সংখ্যক প্রার্থী দেয়ার একটি ঠুনকো ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির নবনিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

    তিনি বলেন, ‘দ্বৈত প্রার্থী হওয়ায় ভোটাররা বিভ্রান্তিতে পড়বেন সত্য। এতে জোটের প্রার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু, আওয়ামী লীগের অনেক প্রার্থী হওয়ায় সামাল দেয়া যাচ্ছিল না। প্রতিটি আসনে আমাদেরও অনেক প্রার্থী রয়েছেন। এটা নিয়ে একটু অসুবিধা হচ্ছিল জোটে।’

    রাঙ্গা বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী দাঁড়ালে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আমরাও এটি জানি। সেভাবেই আওয়ামী লীগকে বলা হয়েছিল। কিন্তু, পরে মহাজোট থেকে সিদ্ধান্ত আসল, ঠিক আছে উন্মুক্ত করে দেয়া হোক। এজন্য ওপেন রাখা হয়েছে।’

    তিনি মনে করছেন, ১৬২টি আসন উন্মুক্ত করে দেয়ায় মহাজোটের দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ‘লাভবান হবে’। তবে প্রকৃত লাভের হিসাব-নিকাশের জন্য ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু, এবার জোটের রসায়ন ভাল ছিল না, এটাও সত্য।

  • পদত্যাগ করা মন্ত্রীদের দফতর পুনর্বণ্টন

    পদত্যাগ করা চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এখন থেকে এসব দফতর দেখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন মন্ত্রী।

    জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দেখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেখবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

  • ফ্র্যাকচার হয়নি : শঙ্কামুক্ত লিটন

    গোড়ালির চোটে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার পর থেকেই সকলের মনে চিন্তা ও সংশয় ঢুকে গিয়েছে কেমন অবস্থায় রয়েছেন লিটন দাস? গুরুতর কিছু হয়নি তো? আবার নামতে পারবেন তো মাঠে?

    এসব প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তিনি জানিয়েছেন এক্স-রে রিপোর্টে কোনো ফ্র্যাকচার ধরা পড়েনি লিটনের। এখন ড্রেসিংরুমে বিশ্রামে রয়েছেন রংপুরের এ তরুণ ক্রিকেটার।

    এর খানিক পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম জানান, ‘লিটন আজকে ব্যাট করতে পারবে কি পারবে না, তা এখনই বলা যাবে না। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ের অবস্থা দেখা যাক, তারপর বলা যাবে। তবে ব্যথা আছে এখনো। পায়ে প্রায় ১৪৫-১৪৬ কিমি গতির বল লেগেছে। তবে ফ্র্যাকচার হয়নি।’

    এর আগে ম্যাচের মাত্র নবম বলেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লিটন দাসকে। তবে নিজের উইকেট হারিয়ে নয়, গোড়ালিতে গুরুতর ব্যথা পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছেন তিনি।

    ক্যারিবীয়ান গতি তারকা ওশেন থমাসের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে দ্রুতগতির ইয়র্কারটি সামাল দিতে পারেননি লিটন। তার করা ফ্লিক শটটি গিয়ে আঘাত হানে সরাসরি লিটনের পায়ের গোড়ালির পাশের অরক্ষিত অংশে।

    পড়িমড়ি করে এক রান সম্পন্ন করলেও নন স্ট্রাইক প্রান্তের পপিং ক্রিজ ছুঁয়েই মাটিতে শুয়ে পড়েন লিটন। পায়ের ব্যথার আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে দলের ফিজিও এসে পর্যবেক্ষণ করেন তার অবস্থা। ব্যথা গুরুতর দেখে স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় লিটনকে।

    উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লিটন সাজঘরে ফিরে যাওয়ায় উইকেটে আসতে হয় ইমরুল কায়েসকে। মাঠ ছাড়ার আগে ১ চারের মারে ৭ বল থেকে ৫ রান করেছেন লিটন।

  • ট্রাকের পাটাতনে দেড় শ’ কেজি গাঁজা

    রাজধানীর খিলক্ষেত থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকের পাটাতনের নিচ থেকে দেড় শ’ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) উত্তর বিভাগ।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাইদুল ওরফে সায়দুল ইসলাম (৩৩) ও নুরুল আমিন মুন্না (৩৩)। এ সময় গাঁজা বহনকারী ট্রাকটি ( ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৯৩৪১) জব্দ করা হয়।

    ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ওবায়দুর রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খিলক্ষেত থানা এলাকার কুড়িল ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে অভিযান চালায় ডিবি উত্তরের অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিম।

    তিনি জানান, অভিযানকালে ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে কুড়াতলী নিউ শাহী স্টিল দোকানের সামনে দাঁড়ানো একটি ট্রাক তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাকের পাটাতনের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১৫০ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ট্রাকের মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করত। এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • বেনাপোল স্থলবন্দরে লোড আনলোড শুরু

    মোঃ লোকমান হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: দেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোলে দীর্ঘ দুই দিন যাবৎ কর্ত্তৃপক্ষের নানা মুখী তাল বাহানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে পন্য আমদানী রপ্তানীতে ঢস নামে অর্থাৎ মালামাল খালাসে স্থবিরতা নেমে আসে।

    ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে সরকার বিরত হয়ে পড়ে। সেই সাথে বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কারী আমদানী এবং রপ্তানী কারকগণ বিপাকে পড়ে যায়। বন্দরের (সিএন্ডএফ) ব্যবসায়ী বৃন্দ এর তীব্র প্রতিবাদ জানালেও স্থল বন্দর কর্ত্তৃপক্ষ গোমরাহী ভাব পোষন করতে থাকে। এমতা অবস্থায় বন্দর ব্যবহার কারী সকল প্রতিষ্ঠান সাংবকাদিকদের দ্বারস্থ হলে প্রিন্ট এবং ইলেট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ সোমবার বেনাপোল স্থল বন্দর পরিচালক প্রদোষ কান্তি দাসের সাক্ষাত নিতে তার কার্যালয়ে গেলে বন্দর পরিচালক সাক্ষাত দানে অপারগতা প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদেও জোরালো ভুমিকায় তিনি সাক্ষাতকার দিতে রাজি হন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেকে বিব্রত বোধ করতে থাকেন। তার এই সাক্ষাত কারের বিস্তারিত বিবরনে “বার্তা বাজারে” প্রচারনা হতে থাকলে ঐ দিনই বিকাল থেকেই পুনরায় স্থল বন্দরের পন্য খালাসের কার্যক্রম সচল হতে থাকে। শ্রমিকরা পন্য খালাসে মনোযোগী হয়। বন্দর ব্যবহার কারীরা বলছেন কর্ত্তৃপক্ষের অযৌক্তিক গোমরাহীর কারনে ব্যবসায়ী এবং সরকার ভীষন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।