১১, ডিসেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ২ রবিউস সানি ১৪৪০

৩২
দিন
২০
ঘণ্টা
৪৩
মিনিট
১৮
সেকেন্ড

জবিতে দেখভালের অভাব ও শর্তারোপে গবেষণায় ভাটা

রায়হান তন্ময়,জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গবেষণায় আগ্রহী পিএইচডি শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের দেখভালের অভাব ও আবেদন করার জন্য অতিরিক্ত শর্তারোপের ফলে গবেষণায় ভাটা পরেছে। গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অর্জন বলা হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকের সংখ্যা খুবই নগন্য। পিএইচডি শিক্ষার্থীকে গবেষণার জন্য আবেদন করতে হলে ৩ বছরের শিক্ষকতা, শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্ক থাকতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক গবেষকের জন্য ডেস্ক, ক্লাস নেওয়ার সুযোগ এবং সম্মানীর ব্যবস্থা না থাকা। শিক্ষকের দেখভাল ও সুপারভাইজের অভাবের ফলে জবিতে গবেষণা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে পিএইচডি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে। ফলে গবেষণায় নেমে এসেছে ভাটা। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ,তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বার্তা’য় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করার লক্ষে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু হয়। ঐ শিক্ষাবর্ষে ১০ গবেষক পিএইচিডি প্রোগ্রামে যোগ দেন। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ৯ জন করে গবেষক যোগ দেন। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ১৪ জন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ১২ জন গবেষক যোগ দেন। কিন্তু ২০১৬-১৭ বর্ষে গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ৬০ লাখ টাকা ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে বরাদ্দ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা । বিশ্ববিদ্যালয় কেন গবেষক পাচ্ছেনা এবং গবেষণার এই অবস্থা জানতে চাইলে লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, গবেষকের সংখ্যা কেন বাড়ছে না তা বলতে পারবনা। তবে একজন গবেষককে যেভাবে দেখভাল করা দরকার তা আমাদের এখানে নেই। তাই এবছর কোন শিক্ষার্থীকে গবেষক হিসেবে নেইনি। পিএইচডি শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার ব্যাপারে ও গবেষণার ব্যাপারে একজন অধ্যাপক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, গবেষণা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সর্বোচ্চ সফলতা ও একাডেমিক উন্নয়নের জন্য মানদন্ড কিন্তু আমরা একজন গবেষককে কোন সুবিধাই দিতে পাচ্ছিনা। কারণ পিএইচডি গবেষণা হল এক ধরণের চাকুরি, যেখানে গবেষকের নিজস্ব ডেস্ক থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানি পাবে ,তিনি ক্লাস নিবেন কিন্তু আমরা এ ধরনের কোন সুবিধা দিতে পারিনা। ফলে আমাদের এখানে গবেষকের সংখ্যা বাড়ছে-কমছে ও গবেষণায় ভাটা পরেছে। গবেষণায় বরাদ্ধ নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার অধ্যাপক মোঃ সেলিম ভুঁইয়ার সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলেও সারা দেননি। সার্বিক বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন,আসলে বিষয়টি নির্ভর করে যিনি গবেষণা করবেন এবং যিনি সুপারভাইজড করবেন তাঁর উপর। তাছাড়া আমরা যে কোয়ালিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী চাই সে অনুযায়ী পাচ্ছি না। তবে আমরা চেস্টা করে যাচ্ছি।